চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও আপস হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত সমুদয় বকেয়া অর্থ পরিশোধিত হলে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আপসসম্পাদিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া বা কারাগারে পাঠানো সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার পর আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
মামলায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ এবং তাঁর সহযোগী আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ বলেন, “আদালত এই রায়ের মাধ্যমে আইনি সুবিচারের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বকেয়া পাওনা আদায় করা, কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়। যেহেতু আপিলকারী সম্পূর্ণ টাকা শোধ করেছেন, তাই আমরা উদার মনোভাব থেকে তাঁর কারাদণ্ড মওকুফের বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছি।”
এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ সম্প্রতি এই রায় ঘোষণা করেন। ‘মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
রায়ে হাইকোর্ট দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেন। পাশাপাশি, আপিল দায়েরের পূর্বে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া অর্থ নালিশকারী প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করলেও বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার সমপরিমাণ অর্থের একটি চেক প্রদান করেন। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ‘পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায়’ চেকটি ডিজঅনার হয়।
আইনি নোটিশের পরও অর্থ পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
এরপর আসামি হান্নান মাস্টার ২০১৮ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল দায়ের করে জামিন লাভ করেন। আপিল বিচারাধীন থাকাকালেই তিনি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সমুদয় পাওনা শোধ করেন এবং চলতি বছরের ২১ জুলাই উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক আপসনামা স্বাক্ষরিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক