দুই বছর ধরে দাপ্তরিক কাগজে আটকা রংপুর চিনিকল
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত রংপুর চিনিকলের ভাগ্য ঝুলে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। ১৯৫৪ সালে এলাকার সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে স্থাপন করা হয় চিনিকলটি। লোকসান কমিয়ে আধুনিকায়নের অজুহাতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মিলটিতে আখ মাড়াই স্থগিত করা হয়।
পরে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখনও দাপ্তরিক কাগজেই আটকে আছে চিনিকলটির ভাগ্য। দীর্ঘদিনের অবহেলায় বর্তমানে চিনিকলের চারপাশ বন-জঙ্গলে ঢেকে গেছে। নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদ।
কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, রংপুর চিনিকল চালু হলে স্থানীয় কৃষকরা এখানেই আখ বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে মহিমাগঞ্জ থেকে জয়পুরহাট চিনিকলে আখ নিতে হয়। এতে খরচ ও ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি পথে আখের ওজন ও মানও কমে যায়। চিনিকল চালু হলে তারা আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করবেন বলে জানান তিনি।
শ্রমিক নেতা আবু সুফিয়ান সুজা বলেন, রংপুর চিনিকল এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম। প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চিনিকলের প্রশাসক (জিএম) লেবু মিয়া বলেন, সরকার আখ ও চিনির দাম নির্ধারণ করে। এক কেজি চিনি উৎপাদনে ১২০ টাকা খরচ হলেও আগে সরকার নির্ধারিত ১০০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে হতো। ফলে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা ঘাটতি হতো। তার দাবি, চিনিকলটি ব্যবস্থাপনাগত কারণে নয়, উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রির কারণে লোকসানে পড়েছে।
রংপুর চিনিকলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোহাম্মাদ শাহিনূল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর আখ মাড়াইয়ের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও এখনও চিনিকল চালুর কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে নির্দেশনা পেলেই চিনিকল চালুর কার্যক্রম শুরু করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

খায়রুল বাসার, গাইবান্ধা (গোবিন্দগঞ্জ)