খুব শিগগিরই জামায়াতের বিরুদ্ধে লং মার্চ শুরু করবে জনগণ : রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসার পথ তৈরি হচ্ছে। এর দায় অবশ্যই জামায়াতের। জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, অ্যাজ এ পলিটিক্যাল পার্টি আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তার মানে কী? এই যে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতেছে, এর সমস্ত পথ তৈরি করে দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, যেহেতু জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—অ্যাজ এ পলিটিক্যাল পার্টি আওয়ামী লীগ ফিরে এলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তার মানে বিএনপির বিরুদ্ধে সেই ’৯৬ সালের মতো আওয়ামী লীগ ও জামায়াত যুগপৎভাবে আন্দোলন করে সরকারকে ব্যর্থ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াতের আমির গণঅভ্যুত্থানের পরপর এক মাসও শেষ হয়নি, সেই সময় যে ঘোষণা দিয়েছিল—আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলো। জামায়াতের নেতারা বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিয়েছে—যারা এতদিন আওয়ামী লীগ করেছেন, এখন যদি জামায়াত করেন আপনাদের সব দায়-দায়িত্ব আমরা নেব। তার মানে কী? তার মানে—এই যে এখন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করছে, অবশ্যই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের মিছিল তারা করার সাহস পায় না। যেহেতু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন এবং তাদের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ, তো সেক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যারা আসলে বিরোধী দল রয়েছে, তারা যদি এ ব্যাপারে—আওয়ামী লীগের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করে, সেক্ষেত্রে তো বিভিন্ন ফাঁকফোকর দিয়ে এ ধরনের মিছিল তারা করার সুযোগ পেয়ে যায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, এই যে এনসিপির তরুণরা যেভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়াল, এটা তারা এখন চ্যালেঞ্জ করতেছে; বিশেষ করে আসিফ মাহমুদ, সে বলার চেষ্টা করতেছে—সে কোনো দুর্নীতি করেনি। তো ভাই তুমি দুর্নীতি করোনি, তাহলে দুদকের ওপর আস্থা রাখো। দুদকের একজন কর্মকর্তার শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে, দুদকের একজন কর্মকর্তার শব্দ চয়নে ভুল হওয়া মানে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি করেনি, এটি প্রমাণ নয়। আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এনসিপির অনেক নেতাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছে। সেই সময় আমরা দেখেছি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেই সংবাদগুলো প্রকাশিত হয়েছে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, এনসিপি ১৮ মাসে যে অপরাধ করেছে, দুর্নীতি করেছে, তারা যদি পাঁচ বছর সুযোগ পেত—তাহলে দুর্নীতিতে তারা আওয়ামী লীগকে হার মানাত। আমার সর্বশেষ কথা হলো, বিএনপি সরকার অবশ্যই ঐক্যের পক্ষে; কিন্তু আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য যারা এক ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের সঙ্গে তো আসলে জাতির ঐক্য হতে পারে না, বিএনপির ঐক্য হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এ মুহূর্তে জামায়াত দায়িত্ব নিয়েছে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার, আর জনগণ দায়িত্ব নিয়েছে যদি আওয়ামী লীগের এই তৎপরতাকে জামায়াত সমর্থন করে, অবশ্যই জামায়াতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ আন্দোলন শুরু করবে। আপনারা লং মার্চ শুরু করেছেন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, অপেক্ষা করেন, আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার যে মিশন আপনারা হাতে নিয়েছেন, খুব শিগগিরই জামায়াতের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ লং মার্চ শুরু করবে।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ রাশেদ খাঁন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ