বিশ্বমঞ্চে সাইবার লড়াই : ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ফাইনালে বাংলাদেশের ৫ দল
বিশ্বখ্যাত সাইবার সিকিউরিটি প্রতিযোগিতা ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ ২০২৬-এর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের পাঁচটি দল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ১৫০টি দলের সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে তিন দিনের লাইভ ফাইনালে অংশ নেবে বাংলাদেশের দলগুলো।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচ দল হলো- The Black Onion (দ্য ব্ল্যাক অনিয়ন), T34MP4R4D0X, রিঅ্যালি অ্যানয়িং বটস (RAB), Facial Expression (ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন) এবং নাল স্ক্রিপ্ট ইনফিলট্রেটরস।
ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সৌদি ফেডারেশন ফর সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং অ্যান্ড ড্রোনস -এর আয়োজনে ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ-এর অংশ হিসেবে এই সিটিএফ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ (সিটিএফ) প্রতিযোগিতা হিসেবে স্বীকৃত এই আয়োজন।
ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ২০২৬ সিটিএফ-এর প্রথম ধাপে ৩০ ঘণ্টার অনলাইন কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দলগুলো এতে অংশ নেয়। বাছাইপর্ব শেষে মাত্র ১৫০টি দল রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য অন-সাইট ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
প্রতিটি দলে ৩ থেকে ৫ জন সদস্য অংশ নিতে পারে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ধরনের সাইবার সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ সমাধানের মাধ্যমে দলগুলো পয়েন্ট সংগ্রহ করবে।
ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ২০২৬-এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদে। ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ২০২৬-এর মূল আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত ১৫০টি দল সরাসরি মুখোমুখি হবে।
প্রতিযোগিতায় থাকছে ওয়েব এক্সপ্লয়টেশন, সিস্টেম এক্সপ্লয়টেশন/পিডব্লিউএন, ডিজিটাল ফরেনসিকস, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং এআই হ্যাকিংসহ বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক সাইবার সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জে ভালনারেবিলিটি ডিসকভারি, এক্সপ্লয়টেশন, সিস্টেম অ্যানালাইসিস, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন এবং অফেন্সিভ সিকিউরিটিসংক্রান্ত বিভিন্ন দক্ষতা পরীক্ষা করা হবে।
পুরস্কার সাত লাখ ২০ হাজার সৌদি রিয়ালের বেশি
ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ২০২৬ সিটিএফ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারের পরিমাণ সাত লাখ ২০ হাজার সৌদি রিয়ালের বেশি। শীর্ষ পাঁচ দলের জন্য নির্ধারিত পুরস্কার হলো- প্রথম পুরস্কার তিন লাখ, দ্বিতীয় দুই লাখ, তৃতীয় এক লাখ, চতুর্থ ৬০ হাজার এবং পঞ্চম ৪০ হাজার সৌদি রিয়াল।
এ ছাড়া সৌদি আরবভিত্তিক দলগুলোর জন্য রয়েছে আলাদা লোকাল টিম অ্যাওয়ার্ড।
বাংলাদেশের পাঁচ দলের দিকে নজর
ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ-এর মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ফাইনালে বাংলাদেশের পাঁচটি দলের জায়গা করে নেওয়া দেশের সাইবার সিকিউরিটি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সিটিএফ প্রতিযোগিতা সাইবার সিকিউরিটি প্রফেশনাল, সিকিউরিটি রিসার্চার, শিক্ষার্থী এবং এথিক্যাল হ্যাকারদের হাতে-কলমে দক্ষতা যাচাই ও উন্নয়নের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
এবার রিয়াদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশের পাঁচ দল। ওয়েব সিকিউরিটি, বাইনারি এক্সপ্লয়টেশন, ক্রিপ্টোগ্রাফি, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিজিটাল ফরেনসিকসসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জে দলগত দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে তাদের।
আগামী ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর বিশ্বের নির্বাচিত ১৫০টি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্য ব্ল্যাক অনিয়ন, T34M P4R4D0X, রিঅ্যালি অ্যানয়িং বটস (RAB), ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন এবং নাল স্ক্রিপ্ট ইনফিলট্রেটরস অংশ নেবে ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ ২০২৬ সিটিএফ-এর লাইভ ফাইনালে।

নিজস্ব প্রতিবেদক