প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিল প্রশাসন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন। ওসি বলেন, পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর তিনি নিজে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে শিক্ষককে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং তার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ছেড়ে দিয়ে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান গণতন্ত্রের শক্তি।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে শিক্ষক লালনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আপত্তিকর বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন বলেন, দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী সঠিকভাবে রিডিং পড়তে পারছিল না। তখন কিছুটা ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বলেছিলাম, কয়েক দিন আগে তারেক রহমানও তো জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিছুটা আটকে গিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বাংলা চর্চার ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ছাত্র হয়ে তোমরা কেন রিডিং পড়তে পারবে না?
তিনি বলেন, আমার কথার উদ্দেশ্য কটূক্তি করা ছিল না। তবে ক্লাসে তার প্রসঙ্গ টানাটা ভুল হয়েছিল। পরদিন কিছু স্থানীয় ব্যক্তি স্কুলে এসে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে একটি মব তৈরির পরিস্থিতি তৈরি হলে আমার প্রাথমিক নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি, বরং অত্যন্ত মানবিক ও সম্মানের সঙ্গে আমাকে বসিয়ে রেখেছিল।
বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক লালন বলেন, রাতে জানতে পারি, বিষয়টি সরকারপ্রধানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন, যেন আমাকে দ্রুত সসম্মানে ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার নির্দেশের পর রাতেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি জানার পর আমি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। তার এই মহানুভবতা ও মানবিক সিদ্ধান্তে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।
প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, রাতেই তাকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ সময় দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে সসম্মানে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তার সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া