বহুমাত্রিক প্রতিভার সাবেক ছাত্রনেতা আসলাম, এবার আলোচনায় দক্ষিণ যুবদলে
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য নতুন কমিটির সভাপতি পদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলামের নাম আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রত্যেকটি ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য তার নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বেও পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া আসলামের শিক্ষা জীবন বেশ উজ্জ্বল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি শেষ করে পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইএমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। স্কুল জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে যুক্ত হন আসলাম। কলেজে ওঠে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসেন। পরবর্তীতে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে জবিতে ভর্তি হয়ে শুরু করেন ক্যাম্পাস রাজনীতির নতুন অধ্যায়।
১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে শুরু করে আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ দুই দশকে তিনি অসংখ্যবার পুলিশ ও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০৬ সালে জবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হওয়া, ২০১১ সালে হরতাল চলাকালে পুলিশ-ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় পা ভেঙে যাওয়া, এবং ২০১৭ সালে বকশীবাজার আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় ইটের আঘাতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার মতো ভয়াবহ স্মৃতির সাক্ষী তিনি। এমনকি ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ এবং ২৯ জুলাইয়ের অবস্থান কর্মসূচিতেও তিনি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হন।
এত বাধা, মামলা ও শারীরিক ক্ষত সত্ত্বেও তিনি কখনও রাজপথ ছাড়েননি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর যখন বিরোধী দলগুলোর ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চলছিল, তখন আসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল রাজপথে প্রতিটি কর্মসূচি সফল করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তার নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল সম্মুখসারিতে থেকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়। ৫ আগস্টের পর পুরান ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তায় রাত জেগে পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের স্নেহভাজন হয়ে ওঠেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান আসলাম সমসাময়িক ছাত্র রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় নাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ইউনিটের সভাপতি থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্পূর্ণ সৎ ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করেছেন। নিজের খরচ চালাতে ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত টিউশনি করাতেন, যা পদ ছাড়ার পরও অব্যাহত রেখেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক বলেন, আসলামকে কাছ থেকে দেখেছি। তার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিনি। তিনি প্রাণবন্ত, সহজ-সরল এবং সবার সঙ্গে মিশতে পারেন। সংগঠন পরিচালনা ও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার সক্ষমতাও তার মধ্যে ছিল।
একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ছাত্রনেতা আসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ছাত্রদলের চরম দুঃসময়ে আসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে তার অবদান ছিল অপরিসীম। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও অনন্য মেধা, সততা ও অসাধারণ বিনয় তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং সমাদৃত করে তুলেছে।
শুধু মাঠের রাজনীতিই নয়, আসলামের এক ভিন্ন সৃজনশীল সত্ত্বাও রয়েছে। তিনি একজন কবি ও সাহিত্যিক। সমাজের অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি এবং প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরে ইতোমধ্যে তার ‘নয়নতারা’, ‘প্রেক্ষাপট’, ‘কল্পিত নয়’ ও ‘সংমিশ্রণ’ শিরোনামে চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত ও প্রশংসিত হয়েছে।
দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, আমি পদকে লক্ষ্য হিসেবে দেখি না। সংগঠনের জন্য কাজ করাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করে, তাহলে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সময় যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও নেতাকর্মী বান্ধব করার চেষ্টা থাকবে। তরুণদের সংগঠিত করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক