নৌকাবাইচ ফিরে আসায় গ্রামের মানুষ আনন্দিত : খাদ্যমন্ত্রী
মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল নেমেছিল। নদীর দুই পাড়, সেতু, ভবনের ছাদ এমনকি গাছের ডালেও জায়গা করে নেন দর্শকরা। মানুষের এই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুগ্ধ হয়েছেন প্রধান অতিথি খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকায় নৌকাবাইচ উপভোগ শেষে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আবার ফিরে আসায় গ্রামের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। মানুষের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখে তারও ভালো লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের এই আনন্দ ধরে রাখতে প্রতিবছর এমন আয়োজন করার চেষ্টা করবেন।
দুপুর থেকেই কালীগঙ্গার দুই পাড়ে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেতু ও আশপাশের উঁচু স্থানগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে অনেকে গাছের ডালে উঠে নৌকাবাইচ দেখেন। বৈঠার তালে একের পর এক নৌকা ছুটে চললে উত্তাল হয়ে ওঠে কালীগঙ্গা। মাঝিদের হুংকার, ঢাক-ঢোল আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়।
স্থানীয় বেউথা এলাকাবাসীর আয়োজনে এবারের প্রতিযোগিতায় চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়। খেল্লা-গয়ইটা, ঘাসি-ছিপা, ছান্দি ও পানসিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন মাঝিরা।
আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, গতবারের সফলতার ধারাবাহিকতায় এবারও সুন্দর আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে। গতবার প্রায় চার লাখ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। এবারও চার থেকে পাঁচ লাখ দর্শক সমাগমের প্রত্যাশা ছিল আয়োজকদের।
দর্শনার্থী আব্দুল আলিম ঘিওর থেকে এসে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ও নৌকা এসেছে। প্রাণবন্ত এই আয়োজন উপভোগ করে তিনি আনন্দিত।
নৌকাবাইচ কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল আলম লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ