পতিত জমিতে পানিফল চাষে স্বাবলম্বী কৃষক
বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমি। জলাবদ্ধতার কারণে এসব জমিতে ধানসহ প্রচলিত ফসল চাষের সুযোগ কম থাকায় বছরের বড় একটি সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। তবে সেই জমিতেই এখন পানিফল চাষ করে আয় করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কম খরচে তুলনামূলক ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষের আগ্রহ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জলাশয় ও নিচু জমির পানির ওপর সবুজ পাতায় ছেয়ে আছে পানিফলের গাছ। কৃষকেরা পানিতে নেমে পরিপক্ব পানিফল সংগ্রহ করছেন। পরে এসব ফল ঝুড়ি ও বস্তায় করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, আগে দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা জমিগুলো তেমন কোনো কাজে আসত না। পানিফল চাষ শুরু করার পর সেই জমি থেকেই বাড়তি আয় হচ্ছে। চারা রোপণ ও পরিচর্যায় তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনাও ভালো।
এক কৃষক বলেন, ‘আগে এই জমি পড়ে থাকত। এখন পানিফল চাষ করে এখান থেকে ভালো আয় করতে পারছি। খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে। বাজারে দাম ভালো থাকলে এ চাষ করে সংসার চালানো সম্ভব।’
পানিফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কৃষকের পাশাপাশি শ্রমিকরা ফল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিবহণের কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, যেসব জমি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, সেসব জমিতে পানিফল চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উৎপাদিত পানিফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জলমগ্ন ও অনাবাদি জমিকে পানিফল চাষের আওতায় আনা গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। ফলে দেওয়ানগঞ্জের পতিত জমিতে পানিফল চাষ সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এহসানুল মাহবুব, জামালপুর (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ-ইসলামপুর)