ধানমণ্ডি লেক এলাকায় হবে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক-বিনোদনকেন্দ্র : ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেছেন, ধানমণ্ডি লেককে এমন একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নগরবাসী বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন ও উপভোগ করতে পারবে। রবীন্দ্র সরোবরের মতো ধানমন্ডি লেক এলাকাকেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমণ্ডি লেকের খনন কাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রী এবং ধানমণ্ডি এলাকার সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম, ডিএসসিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর ধানমণ্ডি লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও খননকাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ, সাইড ওয়াল উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং চারপাশের গাছপালা পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজ করা হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুদের পাশাপাশি নগরবাসী লেকের পরিবেশ উপভোগের সুযোগ পাবেন।
আব্দুস সালাম বলেন, ধানমণ্ডি লেককে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর অবসর ও বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি এর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, লেকে যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন এবং পানিদূষণ না করেন, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে। লেকের পানিতে মাছ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে পানির অবস্থা মাছের জন্য মারাত্মক পর্যায়ে না গেলেও ভবিষ্যতে দূষণ রোধে এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ধানমণ্ডি লেক এলাকায় ‘নজরুল মঞ্চ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য আলোর ব্যবস্থা, ক্যাফেটেরিয়া এবং বসে পড়াশোনার সুযোগ রাখা হবে।
প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ধানমণ্ডি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছেও একটি আকর্ষণীয় স্থান। তাই উন্নয়নকাজ এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ঢাকার অন্যান্য এলাকার মানুষও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে সময় কাটাতে পারেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)