কাগজে-কলমে পাকা রাস্তা হলেও বাস্তবে কাদামাটি
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ‘বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট সড়ক থেকে রকমান ব্যাপারী বাড়ি পর্যন্ত’ এক কিলোমিটার সড়কটি নথিপত্রে সম্পূর্ণ পিচঢালা পাকা। ২০১০-১১ অর্থ বছরে পাকাকরণ এবং পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে লাখ লাখ টাকা খরচে সংস্কার সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বিলও পরিশোধ করেছে এলজিইডি। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন—কাগজে-কলমে ‘পাকা’ হলেও সড়কটিতে কোনো দিন এক ঝুড়ি খোয়াও পড়েনি। টানা ৪০ বছর ধরে কাদা-মাটির খানাখন্দে ভরা এই সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক এক বিচারপতিকে খুশি করতে দশমিনা উপজেলা এলজিইডির অসাধু কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মূল অনুমোদিত সড়কের বরাদ্দের টাকা দিয়ে ওই বিচারপতির আত্মীয়ের বাড়ির সামনে একটি আইডিবিহীন অনুমোদনহীন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন।
দশমিনা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান বেপারি বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কটি এলজিইডির নথিতে ‘৫৭৮৫২৫১৩৩’ নম্বরের বিসি (বিটুমিনাস কনক্রিট) সড়ক। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি প্রথম পাকাকরণের রেকর্ড দেখানো হয়। এরপর গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণ ও সংস্কার (জিওবি-এম) প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পুনরায় সংস্কারের জন্য ৩৩ লাখ আট হাজার ৮৮৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পেয়ে মেসার্স একতা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ ‘কাজ সম্পন্ন’ দেখায় এবং ২৭ এপ্রিল তাদের চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো কাজই হয়নি।
স্থানীয় আনিস খান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মহিবুল খান অভিযোগ করেন, ৪০ বছর ধরে আমরা কাদা ছিটিয়ে যাতায়াত করছি। বহু কষ্টে আবেদন করে বরাদ্দের টাকা পাস করিয়ে আনি। কিন্তু এলজিইডির প্রকৌশলীরা অবৈধ সুবিধা নিয়ে সাবেক বিচারপতি জহিরুল ইসলামের আত্মীয়ের বাড়ির সামনে (চাঁনমিয়া সিকদার সড়ক) সব টাকা ঢেলে দিয়েছেন। এ বছর সংস্কারের নতুন ৩৪ লাখ টাকাও একই অবৈধ সড়কে খরচ দেখানো হয়েছে।
ঠিকাদার মো. মাসুদ রানা বলেন, এসও ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার যে সড়কটি দেখিয়ে শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে বলেছেন, আমি সেখানেই কাজ করে বিল উত্তোলন করেছি।
কাজের তদারকি কর্মকর্তা ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান অনিয়মের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, আগে যে সড়কে কাজ হয়েছে, আমি সেখানেই সংস্কার করেছি। একটি সড়কের বরাদ্দের টাকা অন্য সড়কে ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও ভুল তো আগেই হয়েছে, এতে আমার কিছু করার নাই।
এ বিষয়ে বর্তমান দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী এ টি এম সাদিকুর রহমান বলেন, একটি প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থ দিয়ে আইডিবিহীন অন্য সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের, তাই সরেজমিনে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)