নবজাতকের মৃত্যু : ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ চিকিৎসকের
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক খাইরাতুন হিসান কেয়া। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন—‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন।’
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঐ বিতর্কিত পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এ ধরনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে। একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের এমন অসংবেদনশীল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের সন্তান প্রসবকে কেন্দ্র করে। নাজমার পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, শুরু থেকেই আল-নূর হাসপাতালে ডা. কেয়ার অধীনে প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য দীর্ঘ সময় আটকে রেখে চরম অবহেলা করা হয়। একপর্যায়ে গর্ভেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে স্বজনেরা নবজাতকের মাথায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতের গুরুতর চিহ্ন দেখতে পান। একইসঙ্গে প্রসূতি নাজমা আক্তারের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া দাবি করেন, তিনি স্বাভাবিক প্রসবের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে পরে কুমিল্লায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের চিহ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা পূর্বক উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম)