চণ্ডীপাঠে দেবীর শুভ আবাহন : মহালয়ার আবহে দুর্গোৎসবের প্রহর গুনছে মানিকগঞ্জ
শরতের স্নিগ্ধ আবহে চণ্ডীপাঠ, ধূপ-দীপের সুবাস, ভক্তিমূলক সংগীত আর ভক্তিঘন পূজা-অর্চনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ। হাতজোড় করে প্রার্থনায় মগ্ন হাজারও ভক্তের কন্ঠে ধ্বনিত দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। দেবীপক্ষের শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে এখন আনন্দমুখর শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন মানিকগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মানিকগঞ্জ কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় বিশেষ এই ধর্মীয় আয়োজন। চণ্ডীপাঠ, আগমনী সংগীত, নৃত্য ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আগমনকে স্বাগত জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। উৎসব প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মর্ত্যলোকে মানবজাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনার আকুল প্রার্থনা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়েই অবসান ঘটে অমাবস্যাযুক্ত পিতৃপক্ষের এবং শুভ সূচনা হয় বহুল প্রতীক্ষিত দেবীপক্ষের। এই বিশেষ তিথিতেই অসুরদলনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয় ভক্তদের হৃদয়ে। অশুভ ও অন্যায়ের বিনাশ ঘটিয়ে শুভশক্তির বিজয় এবং পৃথিবীতে চিরশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মূলত দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজন কমিটির অন্যতম সদস্য দীপক কুমার ঘোষ বলেন, মহালয়ার মধ্য দিয়েই মহামায়া মা দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। অসত্য ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে জগতে সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল বার্তা লুকিয়ে থাকে এই আবাহনে। চণ্ডীপাঠ, নৃত্য, গান ও ঢাকের শব্দের সুর মূর্ছনায় মা দুর্গার আগমনকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, যা শরতের আবহকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের মতে, মহালয়া কেবল বর্ষপঞ্জির একটি বিশেষ দিন বা নিয়ম রক্ষার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ ও শান্তির মহামিলন। মহালয়ার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। সাদা কাশফুল, নীল আকাশ আর ঢাকের শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে এখন মানিকগঞ্জের প্রতিটি মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ