পশুর নদে ডুবে যাওয়া কয়লাবোঝাই জাহাজের হদিস নেই
মোংলার সুন্দরবনের পশুর নদে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এক হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজটির অবস্থান দুই দিনেও শনাক্ত করা যায়নি। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বনবিভাগ ও কয়লার মালিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে পরিদর্শন করেও জাহাজটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান খুঁজে পাননি।
জাহাজটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান খুঁজে না পাওয়ায় এখনও শুরু হয়নি উদ্ধার অভিযান। তবে ঘটনাস্থলে তেলের আস্তরণ বা তেল ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যমান কোনো চিহ্নও মেলেনি। এতে বনজ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির কোনো আশংকা নেই বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। তবে জাহাজটি মূল নৌ চ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
গত সোমবার রাতে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় দুর্ঘটনায় এম ভি ফুলবাড়ী নামের কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজে থাকা নয়জন স্টাফ সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণহানি ঘটেনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. সালাহ উদ্দিন কবির বলেন, ডুবে যাওয়া জাহাজটি পশুর নদ থেকে অপসারণের জন্য মালিকপক্ষকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দিয়েছে বন্দরের হারবার বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় এবং পরিদর্শনের সময় জোয়ার থাকায় পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা যায়নি। আশপাশে কয়লা বা তেলের কোনো আস্তরণও দেখা যায়নি। তবে কয়লা ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করছে বনবিভাগ।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও ডুবে যাওয়া জাহাজটির অবস্থান জানা যায়নি। ডুবুরিদল জাহাজটির অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে। হয়তো ভাটার সময় জাহাজটি অবস্থান নির্ণয় হতে পারে। এতে ক্ষতির কোনো আশংকা নেই। কারণ কয়লা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। এ ছাড়া বড় বড় সাইজের কয়লা নিয়ে কার্গো ডুবেছে, আমাদের প্রাথমিক পরিদর্শনে ক্ষতিকারক কোনো কিছু চোখে পড়েনি।
এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো জাহাজের মাস্টার বাদী হয়ে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জিডি রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কার্গোর মালিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানিয়া শিপিং লাইন্সের প্রতিনিধি ইব্রাহিম ব্যাপারী বলেন, জাহাজটিতে ধাক্কা দেওয়া তেলবাহী ট্যাংকারের মালিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা