ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে দুর্ভোগে দুবলারচরের জেলেরা
ঘূরর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুবলারচরের সাত হাজার শুঁটকি জেলে। মৌসুমের শুরুতে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দুবলারচরের আলোরকোলে আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পৌঁছে জেলেরা এ অবস্থার মুখোমুখি হয়।
নৌকা ও ট্রলার নিয়ে জেলেরা সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেয়।
বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান আজ বিকেলে মুঠোফোনে জানান, মৌসুমের প্রথম দিন আজ শুক্রবার সকালে আনুমানিক সাত হাজার শুঁটকি জেলে দুবলার চরে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা প্রথম দিনেই একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তারা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। আলোরকোল, মাঝেরকিল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচর নিয়ে দুবলারচর গঠিত। প্রতি বছর পটুয়াখালী, খুলনা, পিরোজপুর সাতক্ষীরা, বরিশাল, বাগেরহাট, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ১০ সহস্রাধিক জেলে এসব চরে অবস্থান নিয়ে সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করে থাকে। পরে জেলে মহাজনরা শুঁটকি মাছ বাজারজাত করার জন্য খুলনা, সৈয়দপুর, রংপুর, ঢাকা, চট্টগাম, কক্সবাজারসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠায়।
দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে জানান, এবার দুবলার শুঁটকি মৌসুমের শুরুতেই জেলেরা দুর্যোগের কবলে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রওনা হয়ে জেলে বহর আজ শুক্রবার সকালে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচরে পৌঁছায়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চরে নেমে জেলেরা তাদের থাকার অস্থায়ী ঘর ও মাছ রাখার গোলা বানাতে না পেরে তারা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে দ্রুত ছুটেছে সুন্দরবনের ছোট ছোট খালে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সাগরে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ায় জেলেরা আতংকের মধ্যে পড়েছেন বলে কামাল উদ্দিন জানান।

জাহিদ হিমেল, বাগেরহাট (শরণখোলা)