পারিবারিক সচেতনতাই সন্তানদের ভুল পথে যাওয়া রুখতে পারে : ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, পারিবারিক সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনাই সন্তানদের বাল্যবিবাহ, মাদক, যৌতুক ও জুয়ার মতো ভুল পথ থেকে রক্ষা করতে পারে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে যুবশক্তিকে দুর্বল করে দেওয়াই যথেষ্ট। তাই শিক্ষার্থীদের এসব অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) লালমনিরহাট সরকারি কলেজ আয়োজিত একাদশ শ্রেণির (২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ। এর ফলে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কোনো ছাত্রী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়লে ভয় না পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে। এ সময় সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজে বিয়ের সময় যৌতুক গ্রহণের মাধ্যমে যে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এখন থেকেই যৌতুকবিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
যুবসমাজকে ধ্বংসের অপচেষ্টা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এখন কোথাও না গিয়ে ঘরে বসেই তরুণরা অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ক্যাসিনোয় আসক্ত হচ্ছে। তাছাড়া অনেক তরুণ মাদকাসক্তি, বেকারত্ব ও হতাশার কারণে নিজেদের সম্ভাবনা নষ্ট করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে যুবসমাজকে সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী জানান, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তিনি যুবসমাজকে অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে কাজ করছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এসব কার্যক্রমে প্রশাসনও সহযোগিতা করছে। আর এসব উদ্যোগের ফলে এলাকায় মাদকসেবীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ইমাম মো. রাশেদুন্নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকালে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যুবসমাজ সাহসী ভূমিকা রেখেছে। তারা প্রমাণ করেছে ‘সাহসী যৌবনই সুন্দর আগামী’।
বর্তমান সময় উন্নয়ন ও উৎপাদনের উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজকে দেশপ্রেম, আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)