সুতা আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার না হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পোশাক খাতের শীর্ষ নেতারা।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান এসব কথা বলেন।
সেলিম রহমান জানান, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশই আসে গার্মেন্টস খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাক খাতের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি গত বছরের তুলনায় দুই দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বরেই রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।
সেলিম রহমান বলেন, ‘এমন নাজুক পরিস্থিতিতে উচ্চ দরে সুতা কিনতে হলে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাবে এবং ক্রয়াদেশ কমে যাবে। এতে রপ্তানিকারকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মূল দাবিগুলো হলো—সুতা আমদানিতে আরোপিত শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বস্ত্রখাতকে সুরক্ষা দিতে হলে শুল্ক না বসিয়ে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা যেতে পারে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্বালানির মূল্য যৌক্তিক করতে হবে। এছাড়া রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের করপোরেট ট্যাক্সে রেয়াত এবং স্বল্প সুদে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
সেলিম রহমান আরও বলেন, স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিলে শুল্ক আরোপ ছাড়াই স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক