ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ফিজিওথেরাপি নিয়ে সেমিনার ও ফ্রি স্ক্রিনিং ক্যাম্প
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঘাড় ও কোমর ব্যথার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ ক্লাব (EUPHC) ‘Physiotherapy Awareness Seminar & Free Screening Camp on Prevention of Neck & Back Pain’ শীর্ষক বিশেষ একটি সেমিনার ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরীক্ষা কার্যক্রম আয়োজন করে।
গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাউল হায়দার হল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ফরিদ এ সোবহানী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এম ইয়াছিন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন ড. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রধান ড. আবু বিন ইহসান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য ড. ফরিদ এ. সোবহানী বলেন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহারের অনিয়মিত ভঙ্গি এবং শারীরিক অনুশীলনের অভাব ঘাড় ও কোমর ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। তিনি এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মূল প্রবন্ধে ডা. এম. ইয়াছিন আলী ঘাড় ও কোমর ব্যথার কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, নেক পেইন ও লো ব্যাক পেইন এখন শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ সমস্যায় ভুগছে। দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে পড়ে পড়াশোনা, অনুপযুক্ত চেয়ার-টেবিল ব্যবহার, শারীরিক কসরতের অভাব এবং মানসিক চাপও ব্যথার পেছনে ভূমিকা রাখে।
তিনি সঠিক বসার ভঙ্গি, কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি, স্ট্রেচিং ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি ঘাড় ও কোমর ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
বিশেষ অতিথি ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করে। ফলে তাদের মধ্যে মাংসপেশি ও অস্থিসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি বেশি। এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবু বিন ইহসান জনস্বাস্থ্যের প্রেক্ষাপটে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক অঙ্গবিন্যাস এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন অনেক জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
সেমিনারের পর শুরু হয় বিনামূল্যে স্ক্রিনিং ক্যাম্প। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের ঘাড় ও কোমরের অবস্থা মূল্যায়ন, অঙ্গবিন্যাস বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিগত ব্যায়াম পরিকল্পনাও জানানো হয়। ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টদের একটি দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক