চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে টেজাবের সেমিনার
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর প্রথম সাত দিনের সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ‘ঈদ সিনেমার সাত দিন: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেজাব)-এর উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, বসুন্ধরা শপিং মলে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন টেজাবের সভাপতি নাজমুল আলম রানা এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ জয়।
সেমিনারে অংশ নেন ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ও আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর নির্মাতারা। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ‘রইদ’র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন, ‘রকস্টার’র পরিচালক আজমান রুশো, ‘বনলতা সেন’র পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, ‘মাসুদ রানা’র পরিচালক সৈকত নাসির, ‘পিনিক’র পরিচালক জাহিদ জুয়েল ও ‘মালিক’র পরিচালক সাইফ চন্দন।
আলোচনায় বক্তারা ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর দর্শক উপস্থিতি, ব্যবসায়িক সাফল্য, প্রেক্ষাগৃহ পরিস্থিতি, বিপণন কৌশল, পরিবেশনা ব্যবস্থা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি সাধারণ দর্শকের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক বার্তা বহন করে। সেমিনারে চলচ্চিত্র বিপণনের আধুনিক কৌশল, প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণ ব্যবস্থা, ই-টিকিটিং, সেন্ট্রাল সার্ভারভিত্তিক প্রদর্শন ব্যবস্থা, পাইরেসি প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্জনের পাশাপাশি বক্তারা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে পর্যাপ্ত প্রেক্ষাগৃহের অভাব, আধুনিক প্রদর্শন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অসম প্রতিযোগিতা এবং মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তারা সরকারের নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের আলোচনা চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টেজাব মনে করে, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ শিল্পসংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হবে।

জাহিদুর রহমান