ব্যাংক খাতে তারল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
রমজানকে ঘিরে আমদানি ব্যয় বেড়ে সাময়িক চাপে পড়ার পর দেশের ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান ও তারল্যে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) যা ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় নিট ঝুঁকি বা অবস্থান নির্দেশ করে—বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ফেব্রুয়ারিতে এটি নেমে এসেছিল ৬০২ দশমিক ৭১ মিলিয়নে, যখন বাড়তি আমদানি ব্যয় ব্যাংকগুলোর ডলার অবস্থানে চাপ সৃষ্টি করে।
এনওপি মূলত একটি সূচক, যা দিয়ে বোঝা যায় কোনো ব্যাংকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পদ ও দায়ের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু এবং সেই অনুযায়ী তাদের ঝুঁকি কতটা। এই সূচক যত শক্তিশালী থাকে, ব্যাংক তত বেশি নিরাপদভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করতে পারে।
তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে এই সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে এনওপি ছিল ১০৭ দশমিক শূন্য তিন মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বেড়ে ২৭২ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং ২০২৫ সালের জুনে আরও বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ১১৬ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারির সাময়িক পতনের পর সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বাজার তারল্যের অবস্থাও উন্নতির পথে। নেট এফএক্স হোল্ডিং বা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার নিট পরিমাণ— যা বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি বোঝায়— ফেব্রুয়ারিতে কমে দুই দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও বর্তমানে তা বেড়ে তিন দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের জুনে এই তারল্য ছিল তিন দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে তিন দশমিক ৮৯ বিলিয়নে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের জুনে কিছুটা কমে তিন দশমিক ৫০ বিলিয়নে নেমে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক