খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের রাজপথের বিক্ষোভ ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সাধারণ সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক দুই ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালনের বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ফোরামের শীর্ষ নেতারা।
গত দুই দিনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আজ বুধবার (৩ জুন) ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের দিলকুশায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর নবী মানিক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেদিন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে সশরীরে আসবেন, সেদিন গ্রাহক ফোরাম এই টাওয়ারের সামনে গণজমায়েত করবে এবং তাকে কোনোভাবেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যালয়ে ঢুকতে বা দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে কোনো চিহ্নিত ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত কোনো পরিচালককে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কোনোভাবেই রাখা যাবে না।
ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের অবৈধ উপায়ে নেওয়া ৮২ শতাংশ শেয়ার অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে বিক্রি করে তার নামে থাকা সমস্ত ঋণ সমন্বয় করতে হবে জানিয়ে নুর নবী মানিক আরও বলেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তার পাচার করা অর্থ অবিলম্বে দেশে ফেরত আনতে হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল দিলকুশা থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে রওনা হয়, যেখানে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা এস আলমের মালিকানাধীন সব শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকটিকে পূর্বের অর্থাৎ ২০১৭ সালের পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকা কঠোরভাবে ঘিরে রেখেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা; এমনকি ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের আশপাশে জলকামানসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবারও দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা এবং খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। ওইদিনের সমাবেশে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো ওমর ফারুক খানকে ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে সসম্মানে পুনর্বহালসহ ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে পরিচালনা পর্ষদে না রাখার দাবি জানানো হয়।
গ্রাহকরা দাবি করেন, ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট থেকে ১৮ (ক) ধারা বাতিল করতে হবে এবং এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করতে হবে; শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে দেশের কোনো ব্যাংকেই আর ফিরতে না পারে সেই স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এরও আগে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ওইদিন সকালে বিক্ষোভকারীদের মিছিল দমাতে পুলিশ জলকামান থেকে পানি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করলে একশর মতো সদস্য আহত হন, যার বিপরীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ১০ জন পুলিশ সদস্যও আহত হন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্ব পালন করা মো. খুরশীদ আলমকে ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এই তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক