ভাসানটেক সরকারি কলেজে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গত (৬ মার্চ) সোমবার কলেজের স্বাধীনতা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে কলেজ থেকে বিগত সময়ে দেশসেরা বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্না প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তাগণ শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানসিক ও শারীরিক বিকাশে শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার উন্মুক্ত সুযোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন। সকলেই কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক খেলাধূলা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের সাথে মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা, সামাজিক কর্মকাণ্ড,রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব সমন্বয় করে চলতে হবে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা যে জ্ঞান অর্জন করছি সেটা যেন আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারি। শুধু পড়া লেখায় নয়, ভাল মানুষ এবং সুনাগরিক হতে হলে খেলাধূলার এবং শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোন বিকল্প নেই। এসব কর্মকাণ্ড উন্নত জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা যেমন রাখে,তেমনি আমাদের শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। সেইসাথে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই বঙ্গবন্ধু,ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং শৃঙ্খলার সাথে জীবন পরিচালিত করতে হবে।
বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনে শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য আবদুল বাকী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মামুন রেজা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্রীড়া এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম আহ্বায়ক এবং কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিনা আক্তার। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টায় অতিথিসহ সকলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি স্মারক ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ ম্যুরালে পুষ্পস্তবক প্রদান করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন। পরে মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। শেষ পর্বে উপস্থিত অতিথিবৃন্দসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন বলেন, শিক্ষা, খেলাধূলা এবং সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক। ক্রীড়া, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। প্রধান অতিথির ভাষণে সরকারের সচিব আবদুল বাকী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটে। শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র পড়ালেখা করলে হবে না, এর পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসাবে ক্রীড়া, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়মিতভাবে করতে হবে। তবেই শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, মননশীলতা বিকশিত হবে। আলোচনাকালে বক্তাগণ বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভালো ছাত্র হওয়ার আগে অবশ্যই একজন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ভালো মানুষ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে ‘সোনার মানুষ’ হিসেবে গড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রয়াসী হওয়ার প্রতিও সকলে আহ্বান জানান।

ফিচার ডেস্ক