জবিতে কক্ষ নেই, খুলছে নতুন বিভাগ, বাড়ছে সেশনজট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নেই। কিন্তু প্রতিবছরই নতুন নতুন বিভাগ খোলা হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষ সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কক্ষের অভাবে সময়মতো ক্লাস ও পরীক্ষা হতে না পারায় সেশনজটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের বসার জায়গা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত চিঠি দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
তবে উপাচার্য শোনাচ্ছেন আশার বাণী। তিনি বলছেন, নতুন সাততলা ভবনের ওপরে আরো তিনতলার কাজ শেষ হয়েছে। ভবনটি ১৪ তলা হবে। তখন আর শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকবে না।
বিভাগগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মোট ৩৬টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি শিক্ষাবর্ষে চালু করা হয় বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ল্যান্ড ল নামে তিনটি বিভাগ। বিভাগ তিনটির কোনো শ্রেণিকক্ষ এখনো বরাদ্দ করা হয়নি। এ ছাড়া গত শিক্ষাবর্ষে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন এবং লোকপ্রশাসন নামে দুটি বিভাগ চালু করা হয়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিভাগ দুটির জন্য নিজস্ব কোনো শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষ নিয়ে এক বছর ধরে চলছে লোকপ্রশাসন বিভাগের ক্লাস। এদিকে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত পোগেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বিভাগগুলোর সেমিনার, গ্রন্থাগারসহ অন্য কোনো কক্ষও বরাদ্দ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান, ফার্মাসি, মাইক্রোবায়োলজি ও সিএসই বিভাগের জন্য একটি করে শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। তাই বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই কক্ষেই ক্লাস করতে হয়। এতে এক ব্যাচ ক্লাস করলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং আইন বিভাগের শ্রেণিকক্ষ রয়েছে দুটি। বিভাগ দুটিরও কক্ষ সংকট রয়েছে। তবে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের চারটি বিভাগে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকট ও নানা কারণে বিভাগটিতে সঠিক সময়ে ক্লাস সম্পন্ন করতে পারেননি শিক্ষকরা। তাই পেছানো হয় পরীক্ষা। এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষবর্ষের পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন সংকটে তাঁদের ক্লাসই এখনো শেষ হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের এই তীব্র সংকটের বিষয়ে সমাধান চেয়ে গত বছরের মাঝামাঝিতে উপাচার্যের কাছে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের বসার জায়গাও চাওয়া হয় ওই চিঠিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, আইন, মাইক্রোবায়োলজি ও ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষকরা ওই চিঠি দেন। তবে এখনো তাঁদের শ্রেণিকক্ষ বা শিক্ষকদের বসার জায়গার সংকট কাটেনি।
আইন বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন ওনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে প্রায়ই ক্লাস করতে সমস্যা হয়। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ আমাদের। তাই একই সময়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস থাকলে অনেক ব্যাচের ক্লাস বাতিল করতে হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘একটি শ্রেণিকক্ষ দিয়েই পাঁচ বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একটি শ্রেণিকক্ষ দিয়ে বিভাগ চালানো খুবই কঠিন।’
অধ্যাপক শামীমা বেগম আরো বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ল্যাব না থাকায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গিয়ে কাজ করতে হয়। এতে প্রতিবছর তিন-চার মাস করে জটে পড়তে হচ্ছে।’ এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আইন বিভাগের সভাপতি সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিভাগ চার থেকে পাঁচ মাসের জটে পড়েছে। নতুন যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের শ্রেণিকক্ষের জন্য অন্য বিভাগের সভাপতির বলেছি। তারা চাইলে তাদের বিভাগে আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব।’ নতুন শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ দিলে ভালো করে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, ‘নতুন ভবনের সপ্তম তলা পর্যন্ত ক্লাস হচ্ছে। ভবনটির ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ওই ভবনে নতুন করে শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এটা করা সম্ভব হলে হয়তো এ সংকট কেটে যাবে।’

জবি সংবাদদাতা