কুবিতে ছাত্রের হাতে শিক্ষক ‘লাঞ্ছিত’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক ছাত্রের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধের ব্যবস্থা নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. নাহিদুল ইসলাম।
তবে শিক্ষককে লাঞ্ছনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজীদ ইসলাম।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মো. নাহিদুল ইসলাম শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত বাসে ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাচ্ছিলেন। ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন ওই বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আটক করেন। তাই স্ত্রীকে নিয়ে নাহিদুল ইসলাম বাস থেকে নেমে পড়েন। পরে তাঁরা শহরে না গিয়ে ডরমেটরিতে ফিরছিলেন। এ সময় বায়েজীদ ইসলামসহ কয়েকজন তাঁদের পথ রোধ করেন।
লিখিত অভিযোগে মো. নাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তাঁকে উদ্দেশ্য করে বায়েজীদ বলেন, ‘ঢাকায় গিয়ে বসে থাকেন, কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নেন না। ঘাড় ত্যাড়া শিক্ষক, সবাইকে পেটালে ঠিক হবে।’
তবে শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার করে বায়েজীদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকদের আমরা বলেছি, আপনারা অবরুদ্ধ, আপনারা যেতে পারবেন না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়ে অভিযোগপত্রটি উপাচার্য পেয়েছেন। তিনি অনুমতি দিলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭ জানুয়ারি রাতে শিক্ষকের বাসায় হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত ডিন এম এম শরীফুল করিমকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া, খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রক্টরকে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছেন শিক্ষকরা।
এদিকে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুসহ মোট ১১ দফা দাবিতে সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

কুবি সংবাদদাতা