বৈশাখ বরণে ব্যস্ত ঢাবির চারুকলার শিক্ষার্থীরা
আর মাত্র দুদিন। তারপরই বাংলা বছরের দিনপঞ্জিকায় যুক্ত হবে আরো একটি নতুন বছর। পুরোনো বছরের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আসবে নতুন বছর ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। বছর ফের দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।
এই উৎসবের মধ্য দিয়েই ফুটে উঠে আবহমান গ্রাম-বাংলার জীবন বৈচিত্র, বাঙালির সমাজ-সংস্কৃতির চিত্র। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে চৈত্রের খরতাপককে উপেক্ষা করে কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
চারুকলা অনুষদের ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে চমৎকার সব শিল্পকর্ম। কেউ আঁকছেন ছবি, কেউ মুখোশ আবার কেউ ব্যস্তসময় পার করছেন হাঁড়ি-পাতিলের কারুকাজ নিয়ে। এসব তৈরি করা হচ্ছে মূলত বিক্রির জন্য। কারণ এসব বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়েই করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রার কাজ।
অনুষদের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দিপা বলেন, ‘প্রতিবছর চারুকলা ইনস্টিটিউট পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এ আয়োজন সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য অনেক অর্থেরও প্রয়োজন হয়। এই অর্থ আমাদের অনুষদ ও শিক্ষার্থীদের থেকে আসে। বাইরের থেকে আমাদের জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। তাই এসব চিত্র ও শিল্পকর্মাদি বিক্রি করে আমরা ফান্ড গঠন করি।’
পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরেই বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক 'বিশ্ব ঐতিহ্যর' স্বীকৃতি পেয়েছে। যে কারণে এবারের আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনুষদের ১৮ ও ১৯তম ব্যাচের আয়োজক শিক্ষার্থীরা। তাদের আশা, এবারের আয়োজনে সর্বাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবে।
সরেজমিন চারুকলা অনুষদে গিয়ে দেখা যায়, শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে অর্ধশত শিক্ষার্থী ব্যস্ত আছেন বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম তৈরিতে। বিশালাকৃতির হাতি, পুতুল, কুমির, ঘোড়া, বিচিত্র মুখোশ, পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি ও নৌকা ইত্যাদি তৈরিতে করছেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট দিনের আগেই কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এসব শিক্ষার্থী।

এবারের নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন কেমন তা দেখার জন্য পল্লবী থেকে পরিবারসহ ঘুরতে এসেছেন বেসরকারি কর্মকর্তা আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এবারেই প্রথম এখানে ঘুরতে আসা। এখানে এসে গ্রামের ছোট বেলার কথা মনে পড়ে। তা ছাড়া পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে এসে সুন্দর এই আয়োজনকে দেখে খুবই ভালো লাগছে। আর নববর্ষের দিনও আসব বলে আশা করছি।’
শুধু আবদুর রহিম নন, বৈশাখী আয়োজন দেখার জন্য দেশ-বিদেশের অনেকেই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। বিদেশিরা ‘শুভ নববর্ষ' বলে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর।' স্লোগানকে সামনে রেখে উদযাপিত হবে এবারের বাংলা নববর্ষ।
বৈশাখী উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয় চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিসার হোসেনের সঙ্গে। এনটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার চারুকলায় জাঁকজমকভাবে নববর্ষের আয়োজন করা হয়। এবারও তার বিকল্প নয়।’
ড. নিসার হোসেন জানান, ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদ থেকে প্রথম শোভাযাত্রা বের হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ জন্য এ বছরের আয়োজনকে তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাঙালি জাতির এই চেতনাকে ধারণ করে তরুণেরা জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
এদিকে, নববর্ষ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় থাকবে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা