রাবি ছাত্রলীগের দ্বন্দ্ব, কর্মীদের কক্ষে তালা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক আবাসিক হলে কক্ষ দখল নিতে দলীয় কর্মীর কক্ষে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলের দুটি কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী আল ইমরান ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ও আকতার হোসেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র। তাঁরা দুজনই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী।
ওই কর্মীদের কক্ষে তালা ঝুলানোতে নেতৃত্ব দেওয়া আসাদুল্লাহিল গালিব ও কুমার অর্ক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী। কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁরা দুজন মাদার বখশ হলের প্রথম ব্লকের দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষে অবস্থান করছেন। তাঁরা দুজনই ওই হলের অনাবাসিক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, মাদার বখ্শ হলের এক শয্যাবিশিষ্ট ১৩৪ ও ১৩৬ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র আল ইমরান ও আকতার হোসেন। আকতারের পড়াশোনা শেষ হলেও ইমরান এখনো আবাসিক। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকর্মী গালিব ও অর্ক তাঁদের হল ছাড়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল না ছাড়ায় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে দুটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন গালিব ও অর্কের নেতৃত্বে অন্য ছাত্রলীগ কর্মীরা।
তবে সন্ধ্যায় ১৩৬ নম্বর কক্ষ থেকে আকতারকে বের করে পছন্দের কর্মীকে উঠিয়ে দেন তাঁরা। পরে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। মীমাংসা বৈঠকে ইমরানকে আজকের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আকতার নামে এক শিক্ষার্থী চলে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় সে আরেকজন শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে তুলে দিয়ে যাচ্ছিল। তাকে আগে থেকে বলা হয়েছিল, যেন ছাত্রলীগকে জানিয়ে যায়। সে চলে যাবে কিন্তু ছাত্রলীগকে জানায়নি। তাই ওই হলের নেতাকর্মীরা তার কক্ষে তালা দিয়ে দেয়। পরে আমরা গিয়ে তাকে আজ সকালের মধ্যে চলে যেতে বলি। আরেকজন ১৩৪ নম্বর কক্ষের আল আকবরকে তাঁর কক্ষেই থাকতে বলা হয়েছে।’
জানতে চাইলে ছাত্রলীগকর্মী আসাদুল্লাহিল গালিব বলেন, ‘ইমরান ছাত্রলীগ করত, সে হিসেবে সে যাওয়ার সময় অবশ্যই ছাত্রলীগকেই কক্ষ দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সে কোনো যোগাযোগ করেনি। এজন্য তালা দিয়েছি।’
তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, ‘তারা আমার সঙ্গে রাজনীতি করত, এখনো করে। আমার সঙ্গে রাজনীতি করার কারণে তাদের কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতাকর্মীরা। তারা দুপুর ১২টার সময় তালা দেয়। পরে মধ্যরাতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আসলে ভেবেছিলাম সমাধান করবে। কিন্তু তারা একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. তাজুল ইসলাম কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

রাবি সংবাদদাতা