পাবিপ্রবির আকাশে শিক্ষার্থীদের বানানো ড্রোন!
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অটোনোমাস ড্রোন তৈরি করেছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে ড্রোনটি তৈরি করেন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি দল।
আজ শনিবার পাবিপ্রবির সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বাবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের ওই দলটির প্রধান ছিলেন শৌভিক রায়, তাঁকে সহযোগিতা করেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান ও প্রণব প্রামাণিক। শ্রেণিকক্ষের প্রজেক্টের অংশ হিসেবে এটি উদ্ভাবন করা হয়।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ড্রোনটি ওড়ানো হয়। আকাশে ড্রোন ওড়ানোর দৃশ্য উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আওয়াল কবির জয়সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উৎসুক জনতা।
উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে চাইলে শৌভিক রায় বলেন, গবেষণাটি এখনো প্রথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ড্রোনটি ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে এবং দুই কেজি ওজন বহন করতে পারে। এটি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত ও ভিডিও দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়নের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাস্থানে ফিরে আসে। ভবিষ্যতে যাতে ড্রোনটি অপরিচিত ব্যক্তি শনাক্তকরণ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা মনিটরিং, ত্রিমাত্রিক মানচিত্র ধারণ ও শব্দ ধারণ করতে পারে সে জন্য পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে।
উদ্ভাবন দলের প্রধান বলেন, পরে উন্নত ড্রোনটি দূষিত এলাকায় বাতাসের গ্যাসীয় উপাদান শনাক্ত করতে ও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থায় অপরাধী শনাক্ত করতে পারবে। এ ছাড়া এটি দুর্যোগপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করতে পারবে। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা। অটোনোমাস ড্রোনটি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবন পাবিপ্রবির জন্য একটি বড় অর্জন। গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে শিক্ষার্থীদের যথাসম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য তাগিদ দেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নতুন কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় তাঁদের গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগতি সাধন করছে। শিক্ষকরাও তাঁদের মেধা, শ্রম, গবেষণা ও শিক্ষাদানের নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করাচ্ছেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে পড়াশোনা ও গবেষণায় ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে। ভবিষ্যতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সমাজকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে।

অনলাইন ডেস্ক