রাবিতে ভর্তিচ্ছুদের লিফলেট দিচ্ছে শিবির
২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সরব হতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির।
গতকাল শনিবার রাত ৮ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্টেশন বাজার, মেহেরন্ডী, বুধপাড়া এলাকায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
মেহেরচণ্ডী এলাকার মেসগুলোতে অবস্থান করছেন এমন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা জানান, গত রাতে তিন-চারজন যুবক বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্টেশন বাজার, মেহেরণ্ডী, বুধপাড়া এলাকায় ভর্তিচ্ছুদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। তাঁরা এসব এলাকায় রাস্তায় চলাচল করা ভর্তিচ্ছুদের খুঁজে খুঁজে লিফলেট ধরিয়ে দেন।
লিফলেটগুলোতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সংগঠনটির বিভিন্ন অনুষদের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে।
‘হে নবীন, পুষ্পিত শুভেচ্ছা তোমায়’ শিরোনামে লিফলেটগুলোতে দেখা যায়, লিফলেটের ওপরের অংশে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ লেখা রয়েছে। লিফলেটের শিবিরের দলীয় কার্যক্রমের তিনটি ছবি ও সংগঠনের ফেসবুক পেজের ঠিকানাও রয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি যোগাযোগের জন্য কবির ও নাহিদ নামের দুজনের ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে ওই লিফলেটে। এ ছাড়া অনুষদ ভিত্তিক যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন অনুষদের দলীয় কর্মীদের নাম ও ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভর্তিচ্ছু জানান, গত রাতে স্টেশন বাজার থেকে মেহেরচণ্ডীতে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের ছাত্রাবাসে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে তিন-চারজন্য যুবক তাঁর গতিরোধ করে হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। ওই জায়গাটি অন্ধকার থাকায় সেটি কিসের কাগজ তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে আলোয় এসে দেখতে পান যে সেটি ইসলামী ছাত্র শিবিরের লিফলেট।
জামালপুর থেকে আসা আরেক ভর্তিচ্ছু জানান, স্টেশন বাজার থেকে হেঁটে বুধপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় কয়েকজন যুবক তাঁর হাতে একটি লিফলেট ধরিয়ে দেয়। ওই স্থান দিয়ে যেসব ভর্তিচ্ছু চলাচল করছিল তাদের প্রত্যেককে ওই লিফলেট দেওয়া হচ্ছিল। শিবিরের লিফলেট দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝার আগেই ওই যুবকরা স্থান ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘শিবির ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে এসব শুরু করেছে। তবে তাঁরা যেন ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য শিবিরকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ সদা প্রস্তুত রয়েছে। তা ছাড়া ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিও করছি।’
তবে এই লিফলেট বিলির বিষয়টি জানেন না বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘শিবির লিফলেট বিতরণ করছে কি না আমারা জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
২০১৪ সালে ব্যাপক সংঘর্ষের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিবিরকে অনেকটা বিতাড়িত করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরপর থেকে প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে শিবিরকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রচার চালাতে দেখা যায়নি। বেশ কয়েক বছর পর ভর্তি পরীক্ষার সময় আবারও সামনে এলো ছাত্রশিবির।

রাবি সংবাদদাতা