পলাশীতে মুরগির দাম নিয়ে ‘মোরগ লড়াই’
রাজধানীর পলাশী বাজারে মুরগির দাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে রোববার দোকানপাট বন্ধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে ছাত্রলীগ নেতার বিচারের পর দোকান খুলেন তাঁরা।
পলাশী বাজারের ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পলাশী বাজারের (বুয়েট প্রকৌশলী মার্কেট) সততা পোল্ট্রি ফার্মে মুরগি কিনতে যান স্যার এ এফ রহমান হলের প্রথম বর্ষের ছাত্র ধ্রুব। এ সময় মুরগির দাম নিয়ে দোকানদার মলাই মুন্সির ছেলে (৬০) হাসানের সঙ্গে ধ্রুবর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় হাসানসহ অন্যরা ধ্রুবকে মারধর করেন। ধ্রুব হলে ফিরে ঘটনাটি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জানান। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর জের ধরে কিছুক্ষণ পরেই স্যার এ এফ রহমান হলের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাজু ও তৃতীয় বর্ষের সাজুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে ‘সততা পোল্ট্রি ফার্মের দোকানে যান। তারা হাসানের বাবা মলাই মুন্সিকে ধরে ঘুষি মারেন এবং তাঁর মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মলাই মুন্সির মাথা ফেটে যায়। বাজারের লোকজন তাঁকে ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে থাকা মলাই মুন্সির মেজ ছেলে আরিফকে বেদম পেটান ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাঁর শার্টও ছিড়ে ফেলেন। ছোট ছেলে হাসানকে হকিস্টিক দিয়ে পেটানো হয়।

রাজধানীর পলাশী বাজারের সততা পোল্ট্রি ফার্ম মুরগির দোকানের মালিকের ছেলে আহত আরিফ। ছবি : এনটিভি
হামলাকারীরা স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান পক্ষের কর্মী বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানদার আরিফ বলেন, ‘সামান্য কথা কাটাকাটির কারণে তারা আমার বাবার মাথা ফাটিয়ে দেয়। আমাকে ১০-১২ জন মিলে অনেক মারধর করে।’
এ ঘটনায় রোববার সকাল থেকেই পলাশী বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা শনিবার এসে এক দোকানের কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। এ ঘটনায় দোকানদারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করায় রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা দোকানপাট বন্ধ রাখেন।
মাহবুব আরো বলেন, ঘটনার পর গতকাল রাতে ছাত্রলীগের নেতারা এসে বিচার করেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। রোববার বিকেলে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান এসে আবার বিচার বসান। তিনি রায় দেন, হলের ছাত্র ধ্রুবর ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর চিকিৎসার খরচ বহন করবে সততা পোল্ট্রি ফার্ম। আর সততা পোল্ট্রি ফার্মের মালিক ও তাঁর দুই ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, যেহেতু ছাত্ররা হামলা চালিয়েছে, তাদের কাছে তো কোনো টাকা-পয়সা নেই, তাই কোনো চিকিৎসা খরচ দেওয়া সম্ভব নয়।
এ সব বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘পলাশী বাজারে ছাত্রদের সঙ্গে মুরগির দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে আমি শুনেছি। পরে আমি খোঁজ নেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পুলিশ পাঠাই। কিন্তু যারা মারধর করেছে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা