রাবির হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই অনুষ্ঠিত
শত ব্যস্ততা ভুলে পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণে আজ শনিবার মুখর ছিল মতিহারের সবুজ চত্বর।
‘যুক্ত করে হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ’ স্লোগানে শুক্রবার থেকে শুরু হয় হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দুদিনব্যাপী প্রথম পুনর্মিলনী। দিনজুড়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা আড্ডা, গল্প, গান ও স্মৃতিচারণায় ফিরে যেতে চান হারানো সোনালি দিনে।
শুক্রবার অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ৯টায় শহীদ ড. শামসুজ্জোহার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন চত্বরে পতাকা উত্তোলন ও স্মারক ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান।
সকাল সাড়ে ১০টায় সেখান থেকে বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বেলা ১১টায় মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন খাতে সরকার গত আট বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এর কানাকড়িও পায়নি। বরাদ্দ না পাওয়ার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাদ্দ চায়নি। টাকা না চাইলে কেউ তো আর নিজ থেকে টাকা দেবে না। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টাকা চাইতে হবে।’
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউজিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো-মন্দ আপনাদের ওপর নির্ভর করছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণের জন্য সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করবেন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান বলেন, ‘শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন করলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা দিতে চাই। সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা ও অতিরিক্ত শিক্ষা (এক্সট্রা-কারিকুলাম) কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করতে চাই। তাহলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।’
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সালমা বানুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক এম. শাহ্ নওয়াজ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দীন, নিউজিল্যন্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ মল্লিক, ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে দুপুর দেড়টায় একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা। বিকেল ৩টায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মৃতিচারণা ও র্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেল ৫টায় মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।

রাবি সংবাদদাতা