জাবি প্রক্টরের অব্যাহতি চাইলেন শিক্ষকদের একাংশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহাকে অবিলম্বে প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। আজ শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর অব্যাহতি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘শিক্ষক মঞ্চ’।
লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফার্মেসি বিভাগের রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দিন এক শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়া এবং অতঃপর মারধরের ঘটনা ও গুলি ছোড়া- এমন পরিস্থিতিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা ছাত্রলীগকর্মীদের দিয়ে একজন শিক্ষককে আটকে রাখতে বলে যে উসকানি দিয়েছেন তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আমরা এর নিন্দা জানাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে দায়ী করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তিনি (প্রক্টর) স্পষ্টতই তাঁর দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন এবং শিক্ষার্থীদের একটি বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছেন। দায়িত্বশীল একটি পদকে তিনি এমনভাবে অপব্যবহারের চেষ্টা করেছেন যাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভেতরকার সম্পর্ক বিনষ্ট হয়।
অতীতেও প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ আছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘পয়লা বৈশাখে ছাত্রলীগকর্মীদের হাতে এক আদিবাসী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির ঘটনায়ও বর্তমান প্রক্টরের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি নিজেই শিক্ষার্থীদের ধমক দিয়েছিলেন, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি তখন।’
এ ছাড়া প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার সমালোচনা করে বামপন্থী শিক্ষকরা আরো বলেন, বর্তমান ঘটনায় প্রক্টর আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে বক্তব্য পত্রিকায় পাঠিয়েছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে প্রক্টর হিসেবে তাঁর দায়িত্বের সীমানা কতখানি সে ব্যাপারেও তিনি অবহিত নন।
প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে বামপন্থী শিক্ষকরা বলেন, ‘আমরা মনে করি, অধ্যাপক তপন কুমার সাহা প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। অবিলম্বে তাঁকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’
এ ছাড়া এ ইস্যুতে শিক্ষক সমিতির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির কোনো ভাষ্য নেই।
গত ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে ফার্মেসি বিভাগের এক অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক বশিরুল হকের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ পেয়েছে। এতে এ ঘটনার দায়িত্ব না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিকে দায়ী করে শিক্ষার্থীদের ইন্ধনের অভিযোগ ওঠে প্রক্টরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি, ছাত্র ইউনিয়ন-জাবি সংসদ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট-জাবি শাখা।
মারধর ও ফাঁকা গুলি এবং ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ নিয়ে সর্বপ্রথম ২০ ডিসেম্বর রোববার রাতে এনটিভি অনলাইনে ‘গুলি করলেন ছাত্রলীগ কর্মী, প্রক্টরের অডিও ফাঁস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জাবি সংবাদদাতা