পরীক্ষায় সুযোগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন
৬০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকায় (ডিসকলিজিয়েট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ১০২ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার দাবিতে ওই শিক্ষার্থীরা আজ রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিভাগের সামনে আমরণ অনশন ও অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন।
ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা ৬০ শতাংশ ক্লাস না করে ভুল করেছেন। সেজন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। তবে তাঁরা পরীক্ষা দিতে চান। পরীক্ষা দিতে না দিলে তাঁদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আইন বিভাগের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে আমি তাঁদের পরীক্ষার সুযোগ করে দিতে পারি না।’
আইন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সোমবার থেকে রাবি আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। কিন্তু ওই বর্ষের ১২৬ জনের মধ্যে ৫৭ জন শিক্ষার্থী ডিসকলিজিয়েট (৬০ শতাংশের নিচে উপস্থিতি) হয়েছেন। ফলে এই ৫৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাই তাঁদের পুনরায় প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে ক্লাস করতে বলেছে বিভাগ।
এদিকে একই কারণে আগামী ১৫ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না ওই বর্ষের ১৪০ জনের মধ্যে ৪৫ জন শিক্ষার্থী। বিভাগের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় আছেন।
আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এর আগে শূন্য শতাংশ উপস্থিতি থাকলেও পরীক্ষা দিতে পেরেছে শিক্ষার্থীরা। তবে নতুন সভাপতি এসে কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন। ফলে এ রকম হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা ভুল করেছেন। সেজন্য ক্ষমাও চাচ্ছেন। শিক্ষকরা বাবার মতো। তাঁদের কাছে তাঁরা শেষ সুযোগ চান। তাঁদের শিক্ষাজীবন উপহার চাই। নইলে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনাটি নজিরবিহীন। এর আগে আইন বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিতির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। ফলে তাঁদের একবার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে রাবির আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ আরো বলেন, ‘৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত যাদের উপস্থিতি ছিল তাদেরও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণ করে। আর একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে আমি যেতে পারব না।’

রাবি সংবাদদাতা