রাবিতে অ্যাডহক ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে বিপুল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি শিক্ষক সংগঠন— জিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও ইউট্যাব।
সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া এই স্বল্প সময়ে বিজ্ঞাপন ছাড়া এত অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। তারা, এই নিয়ম বহির্ভূত অবৈধ নিয়োগ বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। নিয়োগের জন্য ওপেন সার্কুলার দেওয়া হবে, সবাই আবেদন করবেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন—এটাই আমাদের কাম্য। কিন্তু সেটি না হয়ে যদি রাতের আঁধারে নিয়োগ হয়, সেটি হবে জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়া প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানির শামিল। বর্তমান প্রশাসন জুলাইয়ের ফসল—এটা তাদের ভুললে চলবে না।’
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলন করেছিল দেশ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য, কিন্তু রাবিতে সেই বৈষম্য রয়েই গেছে। সম্প্রতি রাবিতে অ্যাডহকে ডাক্তার ও কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু যদি সার্কুলার দিয়ে এই নিয়োগ হতো, তাহলে যোগ্য প্রার্থীরা এখানে সুযোগ পেতেন। এই বৈষম্যের ফলে আজ আমরা ইউজিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন বলেন, নিয়োগ নিয়ে তারা অভিযোগ করতেই পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগে অনিয়ম করেছে—এমন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে তারা আমাদের কাছে আসুক। নিয়ম মেনেই আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। জনবল সংকট থাকায় কয়েকটি পদে আমরা অ্যাডহক নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমান প্রশাসন মেধাবীদের বাছাই করে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়