তনু হত্যার বিচার দাবিতে ঢাবির ইতিহাস বিভাগের মানববন্ধন
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষকরাও সংহতি প্রকাশ করেন। মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়।
বিভাগের মার্স্টাস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাসুদ সজীবের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সোনিয়া নিশাত আমিন, অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম , ড. গোলাম সাকলায়েন সাকী, এ এম কাউসার, মিল্টন কুমার দেব, প্রভাষক মিঠুন সাহা, শান্তা পত্রনবীশ, মাহমুদা আক্তার পলিসহ প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা ‘আবার তোরা মানুষ হ’,‘কাঁদতে আসিনি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’, ‘আমরা তনুর ভাইবোন, তনু হত্যার বিচার চাই’ এমন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে অধ্যাপক ড. সোনিয়া নিশাত আমিন বলেন, ‘সেনানিবাস একটি নিরাপদ এলাকা। সেই এলকায়ও যখন ধর্ষণ ও হত্যকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তখন আমাদের বলার কিছুই থাকে না। সমাজে একজন নারী বা মেয়েকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। আমরা এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।’
অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম বলেন, ‘তনু আমাদের ইতিহাস পরিবারের একজন সদস্য। তনুর জন্য আমরা ক্লাসরুম ছেড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। শুধু তনু নয়, এমন হাজারো তনু প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক সব ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করেছে। আমরা আশা করি অতি দ্রুত এ ঘটনারও বিচার করা হবে।’
প্রভাষক মিঠুন সাহা বলেন, ‘নিরাপত্তা পাওয়া একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা সেই সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পেতে চাই।’
বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ সাদেক বলেন,‘ক্যান্টনমেন্ট এলাকা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা। কিন্তু যখন সেই এলাকায়ও ধর্ষণ ও হত্যকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে। আমরা কেমন নিরাপত্তার মধ্যে আছি।’ তিনি তনুর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। মানববন্ধন শেষে একটি মৌন মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘুরে মধুর ক্যান্টিন হয়ে কলাভবনে এসে শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা