ঢাবিতে ক্লাসরুম পেতে আন্দোলন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি ক্লাসরুম ফিরে পেতে ক্রিমিনোলজি বিভাগের সামনে সারাদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে। এর আগে গত মঙ্গলবার কক্ষটি ফিরে পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও দেখা মেলেনি তাঁর।
ক্রিমিনোলজি বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কলাভবনের ১০২৪ ও ১০২৫ নম্বর কক্ষটি ‘ক্রিমিনোলজি’ বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মধ্যে ১০২৪ নম্বর কক্ষটি অনেকদিন ধরে বিভাগের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আর ১০২৫ নম্বর কক্ষটিকে বিভাগের ল্যাব কক্ষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু ওই একই কক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রার্থনা কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কলা ভবনের ১০২৫ নং কক্ষের সামনে বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয় সকাল থেকে। এ সময় তারা কক্ষটি ফিরে পেতে বিভিন্ন ধরনের পোস্টারিং করে। কক্ষটির দরজায় এবং দেয়ালে কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘এ কেমন শিক্ষানীতি, রুম নিয়ে রাজনীতি’, ‘আমাদের অস্তিত্ব আমাদের অধিকার, সইবো না অবিচার’।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১০ মে রাতে কক্ষটিকে প্রার্থনাকক্ষ হিসেবে তৈরির করার কাজ শুরু হয়। পরের দিন ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও উপাচার্য তাদের সঙ্গে দেখা দেননি বলে অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাঁদের ক্লাস না করে সেখানে যাওয়ার জন্য কারণ দর্শাতে (শোকজ) বলা হয়।
কক্ষ বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কক্ষটি কারো নামে বরাদ্দ হয়নি বলে জানিয়েছেন কলাভবনের ডিন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, রুমটি এখনো কারো নামেই বরাদ্দ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ কমিটি অনুমোদন দিলেই কেবল একটি কক্ষ নিজেদের বলে দাবি করা যায়। তবে, ফ্যাকাল্টির সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেখানে একটি প্রার্থনাকক্ষ করা হবে।
ক্রিমিনোলজির কক্ষ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিন বলেন, আমাদের অনেকগুলো বিভাগেই এই সংকট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদম শুরু থেকেই আছে এমন অনেক বিভাগও এখনো ঠিকমতো কক্ষ পায়নি। তবে, আমরা সার্বিকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এম আমজাদ বলেন, কক্ষটিকে কারো নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সেখানে নামাজ কক্ষ করে ফাঁকা জায়গা থাকলে সেটিকে কক্ষ করে একটি বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা