ইবিতে ১৮০ শীতার্ত পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো ‘তারুণ্য’
প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনপদ। এমন পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্য’। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি করিডোরে এক শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৮০টি পরিবারের মাঝে উষ্ণ উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে কম্বল, চাদর ও মোজার একটি প্যাকেজ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ হুডি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তারুণ্যের সদস্যরা নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাদের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
মন্টু মণ্ডল নামক এক ভ্যানচালক জানান, তিনি ভিটে-বাড়িহীন অবস্থায় ভ্যান চালাইয়া জীবিকা নির্বাহ করেন। এই দুর্দিনে শীতকালীন সহায়তা পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ হিমেল জানান, তাদের একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পোড়াদহ, শৈলকূপা ও হরিনারায়ণপুরের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫-১০ টাকা করে ফান্ড সংগ্রহ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আজ মানুষের মুখে হাসি দেখে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে অনুপ্রাণিত।
তারুণ্যের সভাপতি মুরসালিন ইসলাম তুরাণ বলেন, প্রান্তিক মানুষের কাছে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা চেষ্টা করেছি অসহায়দের পাশে থাকতে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২৪-২৫ অর্থবছরের সাবেক সেক্রেটারি ফাবিহা বুশরা, সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা।
উল্লেখ্য, অবারিত সম্ভাবনা নিয়ে ‘জাগ্রত তারুণ্য’ ২০০৯ সাল থেকে একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ধারাবাহিকভাবে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি সংগঠনটি নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম, লিডারশিপ ট্রেনিংসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে থাকে।

মায়িশা মালিহা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়