‘পানি আনতে না পারলে টয়লেটের পানি খেয়ে থাকবে’
আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রহমতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষিকার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রীরা।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আধা ঘণ্টা ধরে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
এরপর দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে ২৫৬ ছাত্রীর স্বাক্ষর সংবলিত লিখিত অভিযোগে তাঁরা এ দাবি জানান। অভিযোগপত্রে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণ, জায়গা থাকতেও ছাত্রী না ওঠানোসহ ১১ দফা সমস্যা জানানো হয়।
যাদের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে তাঁরা হলেন অধ্যাপক মিলি জেসমিন ও আবাসিক শিক্ষিকা পাক নেহাদ বানু।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের হলের প্রাধ্যক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষক পাক নেহাদ বানুর খারাপ আচরণে অতীষ্ঠ। আমাদের হলে প্রচুর অনিয়ম চলে এবং এর ভুক্তভোগী হলের বেশির ভাগ ছাত্রী। আমরা তাদের দুজনেরই পদত্যাগ চাই।’
এ সময় ওই প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষিকার দুর্ব্যবহার নিয়ে ওই হলের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমাদের নিচতলার শিক্ষার্থীদের ওপরের তলায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আমার পায়ে সমস্যা, মানে আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিচতলা থেকে ওপরের তলায় উঠতে আমার কষ্ট হয়। তাই আমি হলের আবাসিক শিক্ষিকা পাক নেহাদ বানু ম্যামকে আমার সমস্যার কথা জানাই। কিন্তু সমস্যা হলে তিনি আমাকে হল ছেড়ে মেসে চলে যাওয়ার কথা বলেন।’
ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় দিন আমি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিলি জেসমিনের কাছে আমার সমস্যার কথা বলতে যাই। সেখানে পাক নেহাদ ম্যামও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাকে দেখে বিরক্ত হন। ওই সময় আমি নিচ থেকে বারবার পানি আনাসহ সমস্যার কথা প্রাধ্যক্ষ ম্যামকে বলতে শুরু করলে পাক নেহাদ ম্যাম রেগে গিয়ে মাঝখান থেকে কথা বলতে শুরু করেন, ‘‘তুমি শারীরিক প্রতিবন্ধী তো কী হয়েছে? এই হলে থাকতে হলে তোমাকে ওপরেই থাকতে হবে। নিচ থেকে পানি আনতে না পারলে টয়লেটের পানি খেয়ে থাকবে।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষিকা পাক নেহাদ বানুর কাছে কোনো সমস্যার কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, হলে থাকার দরকার নাই। হল ছেড়ে চলে যাও। তা ছাড়া যেকোনো কাজ করতে হলে দিনের পর দিন তাঁদের পেছনে ঘুরতে হয়। তাঁরা আমাদের সমস্যা তো দেখেনই না বরং ছাত্রীদের বলেন, তোমাদের সমস্যা দেখার দায়িত্ব আমার না। হলে সিট খালি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা প্রদান করা হয় না। এমনকি আমাদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন না।’
ছাত্রীদের অভিযোগ শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তাদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অভিযোগ যাচাই সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ সময় মিজানুর রহমান তাঁদের সমস্যা সমাধানের অশ্বাস দিলে ছাত্রীরা ফিরে যান।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিলি জেসমিন বলেন, ‘আমি হলের ছাত্রীদের সমস্যা না দেখলে কে দেখবে। ছাত্রীদের সমস্যা দেখার জন্যই আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
অধ্যাপক মিলি জেসমিন আরো বলেন, ‘হলের কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছে। তবে সামান্য বিষয় নিয়ে যে শিক্ষার্থীরা এত কিছু করবে এটা আমি তাদের কাছ থেকে কামনা করিনি।’
জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানেন না জানিয়ে পাক নেহাদ বানু বলেন, ‘কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। এখন পর্যন্ত প্রশাসন থেকেও কিছু জানানো হয়নি।’
এদিকে ছাত্রীরা হলে ফিরে দাবি আদায়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। বিকেলে তাঁরা প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রাবি সংবাদদাতা