হালিমে মাছি পাওয়ায় কর্মচারীর গায়ে বাটি ছুড়ে মারলেন জাকসু নেতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলায় একটি খাবারের হোটেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। খাবারে মাছি পাওয়ার অভিযোগে হোটেলের কর্মচারীর গায়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মেরেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দিলে গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘হাবিব ভাইয়ের হোটেল’-এ খেতে যান জাকসু নেতা হোসনে মোবারক। অভিযোগ ওঠে, খাবারে মাছি পাওয়ার দাবি তুলে তিনি হোটেলের কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মারলে তা ওই কর্মচারীর গায়ে লাগে। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রতিবাদস্বরূপ বুধবার রাত ৮টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলার অন্তত ২৫টি দোকান বন্ধ করে দেন। এর পরপরই শিক্ষার্থীদের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পক্ষ অভিযুক্ত জাকসু নেতার বিচার দাবিতে সরব হয়, যাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের যুক্ত হতে দেখা যায়। অন্যদিকে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ একটি পক্ষ দোকান খুলে দেওয়ার দাবি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জাকসু নেতা হোসনে মোবারক কর্মচারীকে আঘাতের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাবারে দুর্গন্ধযুক্ত মাছি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ বাটিটি ছুড়ে মারি, কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করিনি। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে কোথাও অনিয়ম দেখলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।
অন্যদিকে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি জানান, তারা নেতার অপকর্মের বিচার চান ঠিকই, কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দিয়ে জোরপূর্বক দোকান বন্ধ রাখার বিপক্ষে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আরাফাত খান বলেন, জাকসুর নেতা অন্যায়ভাবে একজনকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় দোকানদারেরা স্বপ্রোণোদিত হয়ে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠী অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য বটতলায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে সবাই প্রতিবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, দোকানদারের দিকে হালিমের বাটি ছুড়ে মারা এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দোকান বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

আকিব সুলতান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়