ঘাম ঝরা শ্রমিকদের আছে শুধুই দায়িত্ব, মূল্যায়ন কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের প্রতিদিনের প্রাণচাঞ্চল্য, ক্লাস-পরীক্ষা আর হাজারো শিক্ষার্থীর কোলাহলের আড়ালে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন অসংখ্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী ও হল স্টাফ। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই সচল থাকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিদ্যাপীঠ। তবে মহান মে দিবসেও আড়ালে থেকে গেছে এসব শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা আর অপূর্ণ প্রত্যাশার গল্প।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। কারও হাতে ঝাড়ু, কারও হাতে ময়লার বস্তা- নিঃশব্দে তারা গড়ে তোলেন একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যেখানে দিন শুরু করেন হাজারো শিক্ষার্থী। দিনের পর দিন ঘাম ঝরিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের অনেকেই পান না কাঙ্ক্ষিত মজুরি বা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা।
অন্যদিকে, দিন-রাত পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে যান নিরাপত্তা প্রহরীরা। ক্যাম্পাসের গেট, হল এলাকা কিংবা একাডেমিক ভবন- সবখানেই তাদের সতর্ক দৃষ্টি। বিশেষ করে রাতের নিস্তব্ধতায় দায়িত্ব পালন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবুও দায়িত্ববোধ আর চাকরি টিকিয়ে রাখার তাগিদেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান ছাড়াই চলছিল কারখানা, আগুনে আহত ২
আবাসিক হলগুলোর সাপোর্ট স্টাফরাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কিংবা দৈনন্দিন নানা কাজে তাদের ব্যস্ততা লেগেই থাকে। কিন্তু এই শ্রমের তুলনায় তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সুবিধা যে অনেকাংশেই অপূর্ণ- তা তাদের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মে দিবস এলে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের কথা নতুন করে সামনে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- ক্যাম্পাস সচল রাখার পেছনে যারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাদের অনেকেই এখনও বঞ্চিত মৌলিক অধিকার থেকে। তাই এই দিনটি তাদের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের এক নীরব প্রত্যাশার নাম।
শিক্ষার্থীদের চোখে মহান মে দিবস
স্টুয়ার্ড শাখার পরিচ্ছন্নতা কর্মী শ্রী অষ্টম কুমার বাহার বলেন, আমরা সকাল ৯টা থেকে কাজ শুরু করি। ড্রেন পরিষ্কার থেকে শুরু করে মরা পশুপাখি মাটি চাপা দেওয়া বা শিক্ষকদের বাসার পানির লাইন ঠিক করা- সবই আমাদের করতে হয়। অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও আমাদের কষ্ট খুব একটা কেউ দেখে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বেতনটা বাড়লে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারতাম।
একই শাখার নিরাপত্তা প্রহরী মোখলেসুর রহমান জানান তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, দিন-রাত পালাক্রমে ডিউটি করতে হয়। রাতের ডিউটি সবচেয়ে কষ্টকর। মে দিবসে আমাদের একটাই চাওয়া- পে-স্কেলটা যেন একটু বাড়ানো হয়, যাতে সংসারের খরচ চালানো সহজ হয়।
৫ লিটারে ২৩০ মিলি কম, ফিলিং স্টেশনকে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা
স্টুয়ার্ড শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব হোসেন জানান, বর্তমানে প্রায় দেড় শতাধিক নিরাপত্তা প্রহরী একাডেমিক ভবন ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তায় কাজ করছেন। তিনি বলেন, স্থায়ী কর্মচারীরা স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে যারা মাস্টাররোল বা দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন, তারা আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মে দিবস উপলক্ষে তাঁদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, এই কর্মচারীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চালিকাশক্তির অন্যতম অংশ। তাঁদের কল্যাণে প্রশাসন সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। ধাপে ধাপে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়