‘আমরা কখনো নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করি নাই’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘আমরা কখনো নির্বাচন কমিশনকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করি নাই। বরং আমরা বরাবরই চেয়েছি আমাদের এই নির্বাচন কমিশন ভারতের সেশান (টিএন সেশান, ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার) সাহেবের মতো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক।’
আজ বুধবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন এইচটি ইমাম। ইসির সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এইচ টি ইমাম।
এইচটি ইমাম বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারের কোনো প্রভাব থাকবে না, নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সকালে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী সুষ্পষ্টভাবেই বলেছেন যে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তিনি নিশ্চিত করেছেন। সবার জন্য সুযোগ এক রকম হবে। কোনো পার্থক্য হবে না। নির্বাচনে আমরা কখনো কোনো প্রভাব বিস্তার করি নি, করব না।’
এইচটি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচনে সকল দল অংশ নিবে- এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে বলেছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে, সবাই নির্বাচনে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সকল দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বিএনপিসহ সকল দল নির্বাচনে অংশ নেবে।’
সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা কখনো সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে না। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচন, ২০০৮, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রয়োজন বোধে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী ছিল। সুতরাং সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কি না, তা কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’
তফসিল নিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচন শিডিউল অর্থাৎ তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার একমাত্র নির্বাচন কমিশনের। কবে, কখন, নির্বাচন হবে, কীভাবে হবে সেটি ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। যেহেতু নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, আগামীকাল ৮ তারিখে তারা নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবেন। আমরা তাদেরকে বলেছি এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে। নির্বাচন কমিশনই এর এখতিয়ার রাখে। তারা যেদিন তা করতে চাইবে তাই করবে। আমরা কোনো ক্রমেই বলব না এটি পিছিয়ে দিন বা এগিয়ে দিন।’
এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এর আগে যুক্তফ্রন্ট ও সম্মিলিত জাতীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের কেউই নির্বাচন কমিশনকে হেয় প্রতিপন্ন করেনি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেননি। কিন্তু এর একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট। যার মধ্যে অনেক অনিবন্ধিত দলের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যেভাবে অমার্জিত এবং কুরুচিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন তাতে জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকলেই এটি ধিক্কার জানিয়েছে। কেউ কেউ তর্জনি উঁচিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ভয়ভীতিও দেখিয়েছে। আমরা সুষ্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- বাংলাদেশে জনগণ নির্বাচন কমিশনের প্রতি এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না এবং এর জবাব দিবে ভোটের মাধ্যমে।’
বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা সুষ্পষ্টভাবে বলেছি যারাই নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে আসবেন তাঁরা যাতে নিবন্ধিত হন। নির্বাচন কমিশনের যে কোড অব কন্ডাক্ট আছে, আরপিওর মধ্যে থেকেই তাঁদের কাজ করতে হবে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মশিউর রহমান, রাশিদুল আলম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, গোলাম রাব্বানী চিনু, কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর ইমাম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, সেলিম মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা।