হজযাত্রীদের চোখে কেন পানি?
টেলিভিশনে দেখলাম এক বৃদ্ধ কাঁদছেন। কারণ তিনি সময়মতো হজে যেতে পারছেন না। ভিসা হয়নি। তাঁর পরে এসেও কেউ কেউ চলে গেছেন। তাঁর যাওয়া অনিশ্চিত। হজের বাকি আছে মাত্র তিন-চারদিন, এই ভেবে শিশুর মতো ক্যামেরার সামনে কাঁদছেন।
আরেকজন বলছেন, তিনি দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, এখন তাঁর কাছে আরো এক লাখ ২৫ হাজার টাকা চাইছে এজেন্সি। এখন তিনি এত টাকা কোথায় পাবেন? বলেই হতাশা প্রকাশ করলেন।
এ দৃশ্য প্রায় প্রতি বছরের। হজের সময় এলে আমরা টেলিভিশন আর পত্রপত্রিকায় এ ধরনের খবর দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমাদের আর খারাপ লাগে না। এটা একটা গৎবাঁধা গল্প যেন- হজের সময় দেখা দিবে ভিসা জটিলতা. মোয়াল্লেমদের ফি বাড়ানো জটিলতাসহ ভুয়া এজেন্সির খপ্পরে পড়ে বহু হাজির স্বপ্ন নষ্ট হয়। ঢাকার বাইরে থেকে এসে দিনের পর দিন হোটেল থেকে এজেন্সি অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে কাহিল হয়ে পড়েন একেকজন।
এ সময়টাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা হুমকিধমকি দেবেন হজ এজেন্সিগুলোকে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা নেওয়া হবে। তাদের এজেন্সি বাতিল করা হবে। জরিমানা করা হবে। এ রকম অনেক ‘হবে’-র গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়। এগুলো আমরা পড়ে কোনো প্রকার আশান্বিত হতে পারি না। কারণ আমরা বুঝে গেছি আদম ব্যবসার মতো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এই পবিত্র হজকে নিয়ে প্রতারকচক্র ব্যবসায় মেতে ওঠে হজ মৌসুমে। তাদের হাত অনেক লম্বা। সরকার তাদের টিকি ধরার ক্ষমতাও রাখে না। তা না হলে প্রতি হজ মৌসুমে অনেক এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কিন্তু পরের বছর আবার প্রতারকচক্র একই কায়দায় কীভাবে হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। হিসাব খুব সহজ, নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে লাইসেন্স নিয়ে তারা এই কাজটি করে থাকে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সরকার ইচ্ছে করলেই এই চক্রকে জেল জরিমানাসহ বড় ধরনের সাজার ব্যবস্থা করতে পারে। তা হয় না বলেই এরা প্রতিবছর একই কাজ করে যাচ্ছে।
আমাদের ধর্ম মন্ত্রণালয় একটু কঠোর হলে এই ধরনের দুর্ভোগ থেকে প্রতিবছর হজে গমণেচ্ছুদের স্বস্তি দিতে পারে। কত মানুষের সারা জীবনের স্বপ্ন থাকে এই হজ নিয়ে। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্তদের কত কষ্টের জমানো টাকা হজে যাওয়ার জন্য তুলে দেন বিশ্বাস করে এজেন্সির কাছে। আর সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সেই টাকা নিয়ে হজে যাওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করে এজেন্সিগুলো। কখনো কখনো এজেন্সিগুলো দুর্ব্যবহারও করে থাকে হজযাত্রীদের সঙ্গে।
আমরা চাই না আর কোনো হজযাত্রীর কষ্ট দেখতে। পত্রিকায় পড়তে চাই না ভিসা জটিলতার কারণে একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর। আশকোনা হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের হতাশাগ্রস্ত চেহারা দেখতে চাই না। হজে যাওয়ার জন্য তাঁরা আসবেন ঢাকায়। মনে যে ফুরফুরে ভাব থাকে এলাকা থেকে বের হওয়ার সময়, সেই পবিত্র ইচ্ছেপূরণের আনন্দ নিয়েই যেন প্লেনে উঠতে পারেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
সরকারসহ হজ এজেন্সিগুলোর একটু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আশা করি, অন্তত এই বিষয়টির ক্ষেত্রে। বিষয়টি যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভ।
লেখক : ছড়াকার ও সাংবাদিক

সারওয়ার-উল-ইসলাম