মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পহেলা বৈশাখ উদযাপন
‘অ্যাড স্টাইল টু ইয়োর কার্ট’ -স্লোগানকে ধারণ করে ডিভাকিউআর্ট’র উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরের সুঙ্গাই বেসি এলাকার রাজাক সিটি রেসিডেন্সিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পোশাক, লোকজ সংস্কৃতি এবং গ্রামবাংলার বৈচিত্র্যময় খাবারের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত জানান প্রবাসীরা। লাল-সাদা ও রঙিন পোশাকে শিশু-কিশোরসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শোভাযাত্রা, গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে প্রবাসের মাটিতে এক খণ্ড বাংলাদেশ যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার- পান্তা-ইলিশ, ফুচকা, ঝালমুড়ি, নাড়ু, জিলাপি, সিঙ্গারা ও সমুচা। এছাড়া দেশীয় পোশাক ও অলংকারের প্রদর্শনী আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
আয়োজনের প্রধান সমন্বয়ক এবং এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আফ্রি নূর বলেন, প্রবাসের মাটিতে এই আয়োজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী শিক্ষার্থীদের শিকড়ের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করে এবং বিদেশের মাটিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখে।
বৈশাখী এই মিলনমেলায় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, টেইলরস ইউনিভার্সিটি, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি, সাইবারজায়া ইউনিভার্সিটি, মাহসা ইউনিভার্সিটি, সানওয়ে ইউনিভার্সিটি, এমএমইউ ইউনিভার্সিটি, ইউনিকেএল ইউনিভার্সিটিসহ আরও বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইভেন্ট উল্লাহ শহীদ এবং ইভেন্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুমাইয়া আক্তার। এছাড়া আয়োজন সফল করতে ইসলাম আসাদুল, মাশরুর, গোলাম, ওয়াসিউল আলম তালুকদার, শারমিন সুলতানা শিরিন, দেওয়ান মো. ইসরাক নূর, নির্জন পাল, জাওয়াহের জাহান, মাহজাবিন তুবা, নুসরাত জাহান ও সাফায়েত রহমানসহ এপিইউভিত্তিক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করেন।
উল্লেখ্য, ডিভাকিউআর্ট মূলত নারীদের ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করেছে। দেশীয় পণ্য ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নারীদের নতুন সুযোগ তৈরি এবং প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

কায়সার হামিদ হান্নান, মালয়েশিয়া