কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসনের বলরুম জুড়ে গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ফুটে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি ও কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে নতুন বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রার গল্প।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জায়ান্ট স্ক্রিনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ জাতীয় সংগীত বেজে উঠলে উপস্থিত অনেক বিদেশি অতিথি দাঁড়িয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান বীর শহীদদের প্রতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেপালের উপ-রাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নৈতিক ও বস্তুগত সহায়তা প্রদানের জন্য তৎকালীন নেপাল সরকার ও জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নেপালের নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ’র নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশে নবগঠিত সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ২০২৭–২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতা তুলে ধরা হয়। ব্যানারের মাধ্যমে তাঁর প্রোফাইল উপস্থাপন করে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন কামনা করেন রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নেপালের উপ-রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে স্বাধীনতা দিবসের কেক কাটেন। পরে নৈশভোজে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক নানা খাবারের সমাহারে আপ্যায়িত করা হয়।
এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে নেপালের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, নেপালে নিযুক্ত ২৫ জন রাষ্ট্রদূত ও আবাসিক মিশন প্রধানসহ প্রায় ৩৮০ জন অতিথি অংশ নেন। এ ছাড়া নেপালের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদুর রহমান