ব্যবসায়িক সাফল্যে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন তোফায়েল চৌধুরী
মার্কিন ও চীনা বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা তোফায়েল চৌধুরী লিটন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং পরবর্তীতে যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটন প্রবাসে কেবল নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেননি বরং সততা, কর্মনিষ্ঠা ও ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম ও ঐতিহ্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাতিসংঘে সফরের সময় নিউ ইয়র্কে বিএনপি নেতাদের সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।
এ বিষয়ে তোফায়েল চৌধুরী লিটন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এবং বাংলায় বক্তব্য দিয়ে সারবিশ্ব নেতাদের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন। বিশেষ করে জলবায়ু, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোকপাত করাসহ বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের আগের ভাষণের স্মৃতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই তার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে তিনিও দেশ ও জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছেন।
রাজপথ থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম
ছয় বছর আগে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কাপড়ের ব্যবসা ও ফুড বিজনেসের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন তোফায়েল চৌধুরী লিটন। তবে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে বড় কিছু করার অদম্য তাগিদ থেকে তিনি গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তার মূল প্রতিষ্ঠান ‘এআই মাইডিয়া মেকানিক্যাল কর্প’ (AI Midea Mechanical Corp) এবং এর অধীনস্থ ‘নর্থ আমেরিকা হিটিং অ্যান্ড কুলিং ইলেকট্রিক্যাল সাপ্লাই হাউস’ সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। ইয়ংকার্স, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে বিস্তৃত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৭ জন দক্ষ কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন, যা চলতি মাসেই ৫০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক স্টেট প্রজেক্ট ও 'গোল্ড কন্ট্রাক্টর' স্বীকৃতি
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার এক বিশাল পরিবেশবান্ধব পাইলট প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়েছে তোফায়েল চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান।
গোল্ড কন্ট্রাক্টর স্বীকৃতি : পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি অর্জনে করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ড কন্ট্রাক্টর’ অ্যাওয়ার্ড।
বিশাল অবকাঠামো : ইলেকট্রনিক সামগ্রীর জন্য ইয়ংকার্সে রয়েছে ১০ হাজার বর্গফুটের হোলসেল ডিপো এবং পণ্যের জন্য গড়ে তুলেছেন ৪০ হাজার বর্গফুটের বিশাল ওয়্যারহাউজ।
গ্রিন সিটির উদ্যোগ : পরিবেশবান্ধব নিউইয়র্ক গড়ার অংশ হিসেবে সরকারি তহবিলের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিনামূল্যে ড্রায়ারসহ আধুনিক হিটিং ও কুলিং সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান।
সারাদেশে সম্প্রসারণ : পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনলাইনে পণ্য সরবরাহ এবং রেস্টুরেন্ট চালুর প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।
বিদেশের মাটিতে এক টুকরো লাল-সবুজের বাংলাদেশ
ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরেও তোফায়েল চৌধুরী লিটন প্রবাসী সমাজে এক নীরব সংস্কৃতি-দূত হিসেবে কাজ করছেন। ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন অনেকেই করে, কিন্তু বিদেশের মাটিতে নিজের দেশকে সঠিক ও সুন্দরভাবে তুলে ধরার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি, তা অন্য কিছুর সাথে মেলে না। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যখন আমাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে চেনে এবং দেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে, তখন প্রবাসী হিসেবে পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।’
তোফায়েল চৌধুরী লিটন তার সরবরাহকারী প্রতিটি ডেলিভারি ভ্যানে বাংলা হরফে স্পষ্ট করে লিখেছেন, ‘এআই মাইডিয়া মেকানিক্যাল কর্প— একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান’। এ ছাড়া অফিসে আগত বিদেশি গ্রাহকদের দেশীয় হস্তশিল্প, সুস্বাদু বাঙালি খাবার ও উষ্ণ আতিথেয়তার মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সাথে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও দেশের কল্যাণে অবদান
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের এই কৃতী সন্তান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ মহাপরিকল্পনায় তারা তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও উন্নত কারিগরি দক্ষতা দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
নবীন প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে তোফায়েল চৌধুরী লিটন বলেন, প্রবাসে আসার আগে যেকোনো কাজের ওপর স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষ কর্মী হিসেবে প্রবাসে এলে খুব দ্রুত নিজেকে সম্মানজনক স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থপ্রবাহে অবদান রাখার পাশাপাশি নতুন আসা বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এক বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়েছেন এই উদ্যোক্তা। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা সগৌরবে উড়িয়ে তিনি আজ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউইয়র্ক থেকে ফিরে