মসজিদ পরিচিতি
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদ
মোগল কিংবা সুলতানি স্থাপত্যের নিদর্শন না হলেও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত ‘তারা মসজিদ’। ঢাকায় থাকা নান্দনিক মসজিদগুলোর একটি এটি। ঠিক কবে মসজিদটি নির্মাণ হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে মির্জা গোলাম পীর ওরফে মির্জা আহমেদ জান নামের এক ব্যবসায়ী এটির নির্মাতা বলে ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে।
১৯২৬ সালে আলী জান বেপারী নামের এক ব্যবসায়ী মসজিদটি সংস্কার করেন। তিনি চিনামাটির প্লেট, পেয়ালা ও ছোট-বড় নানা রঙের কাচের টুকরার সমন্বয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে মসজিদটি অলংকৃত করেন। এ পদ্ধতিকে চিনি দানার কাজ বা চিনিডিক্রি বলা হয়।
কারুকার্যময় এই মসজিদের দেয়ালে ও ছাদে শোভা পেয়েছে নানা রঙের ফুল, পাতা ও চাঁদ-তারা নকশা। এর গম্বুজগুলো তারাখচিত নকশা দ্বারা অলংকৃত। সে জন্যই এটিকে তারা মসজিদ নামে ডাকা হয়।
১৯৮৭ সালে সরকারি অর্থায়নে মসজিদটির গম্বুজ তিনটি থেকে পাঁচটিতে উন্নীত করা হয়। সেই বছরের ৪ ডিসেম্বর এটিকে রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়।
তারা মসজিদের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৩৪ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯৮ মিটার। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী দূরদূরান্ত থেকে মসজিদটি পরিদর্শন করতে আসেন।
পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল থেকে রিকশায় করে সহজেই মসজিদটিতে যাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে রিকশা ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা।

শিফা আক্তার