নান্দনিক শিল্পকর্মে নির্মিত ফেনীর জহিরিয়া মসজিদ
ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে স্থাপিত জহিরিয়া মসজিদ নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী আর প্রশান্তিময় পরিবেশ মুসল্লিদের মন কাড়ে। শহর ছাড়াও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন এই মসজিদে। এই মসজিদে একসঙ্গে অন্তত ৬ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। জুমার দিনে মসজিদ সংলগ্ন সড়কেও নামাজ আদায় করেন শত শত মুসল্লি।
১৯৪০ সালে জহির উদ্দিন নামে একজন সরকারি কর্মকর্তার দানকৃত জায়গায় মসজিদটি স্থাপিত হয়। তার নাম অনুসারেই মসজিদটির নামকরণ হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে। মসজিদের পাশে দুই স্ত্রীসহ তাঁর কবর রয়েছে।
বর্তমান আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয় ২০০৬ সালে। ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে নামাজ ও ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি নূরাণী মাদরাসা ও হিফজ্ বিভাগ চালু রয়েছে। ফলে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লিদের সমাগম ছাড়াও সকালে শিশুদের কোলাহলে মুখরিত হয় মসজিদ ছাড়িয়ে আশপাশ। এ ছাড়া নিয়মিত কুরআনের তাফসির, বয়ষ্কদের কুরআন শিক্ষায়ও যোগ দেন শত শত মুসল্লি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদুল মিল্লাত মুক্তা জানান, জেলার দাগনভূঞা উপজেলার কৈখালীর মিঞা বাড়ির বাসিন্দা জহির উদ্দিন মসজিদ নির্মাণকল্পে ৫৭ শতক জায়গা দান করেন। এরমধ্যে মসজিদটি ৩০শতক জায়গায় এবং তৎসংলগ্ন স্থানে একটি মার্কেট রয়েছে। ট্রাংক রোডে রয়েছে আরো ৭ শতক জায়গা। সেখানে আরো দেড় শতক জায়গা ক্রয় করে সাড়ে ৮ শতকের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘জহিরিয়া মার্কেট’। এ ছাড়া মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটটিও ভেঙ্গে ১০তলা আধুনিক ভবন করা হচ্ছে। এখানে ৬তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ও উপরের ৪তলায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসন, হিফজখানা, নূরানী মাদ্রাসা ও মক্তব স্থানান্তর করা হবে। অবশ্য উল্লেখিত স্থানে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করার জন্যও দাবী রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের।
২০০৬ সালে নতুন আঙ্গিকে মসজিদ নির্মাণ উপ-কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় তৎকালীন শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হারুনকে। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ফেনী বড় জামে মসজিদের সেক্রেটারি ছিলেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার তত্ত্বাবধানে অত্যাধুনিক নকশায় নির্মিত হয় মসজিদ ভবনটি।
মো. ফারুক হারুন জানান, মাত্র দুই লাখ টাকা তহবিল নিয়ে কাজ শুরু করেন। ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনটি কাজ শেষ হতে ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমনকি বিদেশী অনুদান ছাড়াই শুধুমাত্র মুসল্লিদের দানেই মসজিদটি গড়ে ওঠে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলা সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
পর্যায়ক্রমে উপরেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে সুউচ্চ ছাদ, পর্যাপ্ত আলো বাতাসে স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া, ওযু ও শৌচাগারের জন্য আরামদায়ক ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বাহিরের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও ভেতরের মনোরম পরিবেশ এখানে মুসল্লিদের প্রশান্তি দেয়। ফলে শহর ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকেও প্রতিদিন শত শত মুসল্লি এখানে নামাজ পড়তে ছুটে আসেন। প্রতিটি ফ্লোরে দেড় হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। জুমার দিনে মসজিদ চাপিয়ে সড়কেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান মানিক বলেন, জহিরিয়া মসজিদের ভেতর বাহিরের দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। বিশেষ করে হাজার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায়ের পরও মসজিদের পরিবেশ সর্বদা পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচালনা কমিটি তৎপর থাকেন।
মোহাম্মদ হোসাইন সুজন জানান, জহিরিয়া মসজিদের সুউচ্চ মিনার থেকে আজানের ধ্বনি পুরো শহর মুখরিত করে। আজানের সূর মুসল্লিদের মসজিদে যেতে ব্যাকুল করে তোলে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)