দর কমলেও লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৪৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই সপ্তাহতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে। অপরদিকে সপ্তাহটিতে শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ১৮ টাকা ২০ পয়সা। এতে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন কমেছে ৩৭ কোটি পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩২ টাকা। তবে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) হিসেবে কোম্পানিতে বিনিয়োগ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়ায় ৩৬৪ টাকা। আগের সপ্তাহের ৫ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৩৮২ টাকা ২০ পয়সা। গত বৃহস্পতিবার মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭৪১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৬৪০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৫ মার্চ হয়েছিল ৭৭৮ কোটি ১৫ লাখ ২৭২ টাকা।
গেল সপ্তাহে ৪১৩টি কোম্পানির দুই হাজার ৬৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সেখানে সপ্তাহটিতে ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৪৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পিই রেশিও দাঁড়ায় ১৫৮ দশমিক ২৬ পয়েন্টে। পিই রেশিও অনুসারে কোম্পানিতে বিনিয়োগ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদনে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২০২৫) একই সময়ে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৪৯ পয়সা। চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিক (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে এক টাকা ১৫ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল এক টাকা তিন পয়সা। চলতি অর্থবছরের কোম্পানিটির দুই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে এক টাকা ৮৫ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা।
এর আগে ২০২৪-২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে (জুলাই-জুন) জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল এক টাকা ৭২ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছিল এক টাকা ৩০ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ১৬ টাকা ২ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির স্বল্পমেয়াদি লোন দাঁড়িয়েছিল ৩০ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ওরিয়ন ইনফিউশনের। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা দুই কোটি তিন লাখ ৫৯ হাজার ৭৬০টি। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকরা ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালকরা ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, বিদেশি শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক