ডিএসইতে নিরাপদ বিনিয়োগে সেরা ব্যাংক
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পিই রেশিও হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের বিশ্লেষকেরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিএসইতে খাতভিত্তিক হিসেবে ব্যাংক খাত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। এই খাতের পর বিনিয়োগে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে জ্বালানি শক্তি খাত। এই দুই খাতের পিই রেশিও সিঙ্গেল ডিজিটে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে খাত দুটিতে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। তবে খাতভিত্তিক হিসেবে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সিরামিক খাত।
এদিক পুঁজিবাজারের কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যদি সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া হয়। এ ছাড়া পিই রেশিও ডিজিট যদি ১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে সেখানেও বিনিয়োগ নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। সেই হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। গত সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট। সেই হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে আছে। তেমনি বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ডিএসইর বেশিরভাগ খাতই নিরাপদে রয়েছে।
গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতটিতে পিই রেশিও অবস্থান করেছে পাঁচ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসেবে এই খাতের পরেই বিনিয়োগ নিরাপদে অবস্থান রয়েছে জ্বালানি শক্তি খাত। এই খাতের পিই রেশিও ছয় দশমিক ৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। পিই রেশিও ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
এরপর পিই রেশিও বিবিধ খাতের ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ পয়েন্ট, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ১০ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট এবং প্রকৌশল খাতের ১১ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। অপরদিকে সিরামিক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছিল ৩৩৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিরামিক খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে অবস্থান করেছে।
এদিন খাতভিত্তিক হিসেবে পিই রেশিও টেলিকম খাতে ১৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট, নন ব্যাংক আর্থিক খাতে ১৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতে ১৫ দশমিক শূন্য সাত পয়েন্ট, বিমা খাতে ১৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সেবা আবাসন খাতে ১৭ দশমিক শূন্য সাত পয়েন্ট, চামড়া খাতে ১৭ দশমিক ৭১ পয়েন্ট, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতে ১৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট, ভ্রমণ অবকাশ খাতে ১৯ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট, আইটি খাতে ২৫ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট, পাট খাতে ২৮ দশমিক ১৭ পয়েন্ট এবং পেপার ও প্রিন্টিংয়ের ৩১ দশমিক ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক