দুই মাসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর বেড়েছে ১৫৮ শতাংশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির শেয়ার দর কোনো কারণ ছাড়াই লাগামহীন বাড়ছে। গত দুই মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে প্রায় ১৫৮ শতাংশ। অথচ কোম্পানিটি এখন লোকসানে রয়েছে। সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। তাই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর এত বৃদ্ধির ঘটনা ভালো চোখে দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি সমাপনী দর দাঁড়ায় ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা। যেখানে দুই মাস আগে ১৫ জুন শেয়ারপ্রতি দর ছিল ১৭ টাকা। মাত্র দুই মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে ২৬ টাকা ৮০ পয়সা, যা ১৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানির মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়ায় এক হাজার ৩২৯ কোটি ১২ লাখ দুই হাজার ৩৭৪ টাকা। গত ১৫ জুন বাজারে মূলধন ছিল ৫১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৩ টাকা। দুই মাসে মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন বেড়েছে ৮১৩ কোটি ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৫২১ টাকা।
অপরদিকে, এক মাস আগে ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ছিল ৩১ টাকা ৪০ পয়সা। এক মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে ১২ টাকা ৪০ পয়সা আর মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ২৮ লাখ ছয় হাজার ১৫২ টাকা।
শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারহোল্ডার হোসনে আরা ও সাফায়াত হোসেন বলেন, যেখানে উচ্চ মুনাফা করা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর তলানিতে আছে, সেখানে তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসানে পড়া ও শেষ সমাপ্ত অর্থবছরে লভ্যাংশ না দেওয়া শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর হু হু করে বাড়ছে, এ বিষয়টি পরিষ্কার না আমাদের কাছে।
তারা বলেন, কোম্পানিটিতে এমন কিছু ঘটেনি যে শেয়ার দর এমনভাবে বাড়বে। এ ছাড়া কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন তথ্য ও শেয়ার দরের বর্তমান অবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। শেয়ার দরের এমন বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে জানিয়ে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কেন বাড়ছে, সেটা বলতে পারছি না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর কেন বাড়ছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। এ মুহূর্তে কোম্পানির শেয়ার যারা কিনছেন, কেবল তারাই বলতে পারবে, কেন কিনছেন।
অপরদিকে শেয়ার দর বাড়ার কারণে গত ১১ আগস্ট কোম্পানিটিতে ডিএসই নোটিশ পাঠিয়েছিল। এর জবাবে ১২ আগস্ট কোম্পানিটি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ার দর বাড়ছে। ওইদিন (১২ আগস্ট) শেয়ার দর ছিল ৪৪ টাকা ১০ পয়সা। এরও আগে ১৩ জুলাই শেয়ার দর বাড়ার কারণে কোম্পানিটিতে ডিএসই নোটিশ পাঠিয়েছিল। এর জবাবে পরের দিন ১৪ জুলাই কোম্পানিটি জানিয়েছিল, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ার দর বাড়ছে। ওইদিন (১৪ আগস্ট) শেয়ার দর ছিল ৩০ টাকা ৩০ পয়সা। এ ধরনের দর বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদনে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭১ পয়সা। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২০২৫) একই সময়ে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল পাঁচ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে দুই টাকা ১৬ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৪৯ পয়সা। সর্বশেষ তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে এক টাকা ৮৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে সাত টাকা ৯২ পয়সা।
এর আগে ২০২৪-২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে (জুলাই-জুন) জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১১ পয়সা। ওই অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছিল নেগেটিভ এক টাকা ৭৪ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ১০ টাকা আট পয়সা।
ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের। বি ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৭৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩০৩ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৩০ কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ১০৯টি। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, বিদেশিদের হাতে শূন্য দশমিক শূন্য দুই পয়েন্ট ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৮ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক