ট্রিপল সেঞ্চুরিতে তামিমের ইতিহাস
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে গতকাল শনিবার দুইশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম ইকবাল। অপ্রতিরোধ্য তামিম এবার হাঁকালেন প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন তামিম। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ত্রিশতক করার মাইলফলক স্পর্শ করলেন দেশসেরা এই ওপেনার।
আজ রোববার বিসিএলের ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এ কীর্তি গড়েছেন তামিম। এর আগে শেষ ২০০৭ সালে জাতীয় লিগে বরিশালের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে অপরাজিত ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রকিবুল হাসান। এতদিন এটাই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন তামিম। শুধু তাই নয়, রকিবুলের ৩১৩ রানের ইনিংস ছাড়িয়ে গেলেন তামিম।
ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পেতে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা ব্যাট করেছেন তামিম। তিন শতকের ঘরে যেতে ৪০৭ বল খেলেন তিনি। যার মধ্যে ছিল ৪০টি বাউন্ডারি।
আর কদিন বাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তার আগে বিসিএলে খেলে ক্রিকেটাররা সেরে নিচ্ছেন প্রস্তুতি। আর তা ভালোভাবেই কাজে লাগালেন তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল। পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে দারুণ ব্যাট করছেন তিনি। অবশ্য অনেক দিন পর বিসিএলে খেলতে নেমেছেন তামিম। ছয় বছর পর এই আসরে খেলতে নেমে ইতিহাস গড়লেন বাঁহাতি ওপেনার।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তামিম ৩৩৪ রানে অপরাজিত। ৪২৬ বলে ৪২ চার ও তিন ছক্কার মার ছিল তাঁর এই ইনিংসে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তামিম সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেন ২০১৫ সালে।
এদিকে, কিছুদিন আগে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। সিরিজে বাংলাদেশ ব্যর্থ হলেও সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল তামিমের। দুই ইনিংসে একটি হাফসেঞ্চুরিতে ১০৪ রান করেছেন তিনি।
তামিম প্রথম ম্যাচে ৩৪ বলে ৩৯ রান করেন। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বড় ইনিংস খেলেন তিনি। ৫৩ বলে ৬৫ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তামিমের পর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ। দুই ইনিংসে একটি হাফসেঞ্চুরিতে ৮৪ রান করেছেন তিনি।
আর কদিন বাদে একটি টেস্ট খেলতে সেখানে যাবেন মুমিনুল হক-তাইজুল ইসলামরা। রাওয়ালপিন্ডিতে ৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি বসবে টেস্টটি। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পাকিস্তান সুপার লিগ আয়োজনে করবে পিসিবি। পিএসএল শেষ হওয়ার পর এপ্রিলে তৃতীয় দফায় পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ। ৩ এপ্রিল করাচিতে খেলবে একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর ৫ থেকে ৯ এপ্রিল করাচিতে দ্বিতীয় টেস্টে নামবেন টাইগাররা।

স্পোর্টস ডেস্ক