নাটকীয় জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের
সামনে রানের পাহাড়। জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের চাই ৩২৩ রান। এই বিশাল লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। শতক পার হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। শেষ দিকে কিছুটা আশা জাগালেও পারেনি তারা, হেরেছে ৪ রানে। তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০তে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৩২২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। জবাবে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় দারুণ চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে শেষ বলে ছক্কার সমীকরণ মেলাতে না পেরে হেরে গেছে তারা। ৩১৮ রানে থামে তাদের ইনিংস।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। টানা দুই ছক্কা মেরে জিম্বাবুয়েকে জয়ের প্রায় কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড টিরিপানো। তবে শেষ পর্যন্ত পারেনি তিনি। তিনি ২৮ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর টিনোটেন্ডা মুটোমবোজির ২১ বলে ৩৪ রান করেন। এর আগে ওয়েসলি মাদেভেরে ৫২ ও সিকান্দার রাজা ৬৬ রানের ঝড়ো দুটি ইনিংস খেলেন।
তাইজুল ইসলাম তিনটি, মাশরাফি বিন মুর্তজা, শফিউল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরিজ একটি করে উইকেট তুলে নেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৩২২ রান করে। ব্যাট হাতে ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল।
বাংলাদেশের ম্যাচের শুরুটা হয় দারুণ। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তামিম ইকবাল। দেখেশুনে শুরু করেন লিটন দাসও। তবে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো লিটন এবার বেশিদূর যেতে পারেননি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে তামিম ইকবালের ড্রাইভ ধরতে যান কার্ল মুম্বা, কিন্তু তাঁর হাতে লেগে বল আঘাত হানে অপরপ্রান্তে থাকা লিটনের স্টাম্পে। তখন উইকেট থেকে কিছুটা বাইরে ছিলেন লিটন। চেষ্টা করেও রান আউট থেকে বাঁচতে পারেননি তিনি। ফিরে যান সাজঘরে। তাঁর আউটে ভাঙে ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।
কিছুক্ষণ পর তামিমের ভুলে নাজমুল হোসেন শান্ত সাজঘরে ফেরেন রান আউট হয়ে। তিনি ১০ বলে ছয় রান করেন। এরপর তামিমকে সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকে নিয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। দারুণ ছন্দে ছুটতে থাকা এই জুটি ভাঙে ২৬তম ওভারে। হাফসেঞ্চুরি করে ফিরে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিক। ৫০ বলে ৫৫ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন তিনি।
এরপর মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তামিম। ইনিংসের ৩৭তম ওভারে উইলিয়ামসের বলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। ওয়ানডেতে তামিমের এটি ১২তম সেঞ্চুরি। দেশের হয়ে ওয়ানডেতে শেষ ২০১৮ সালের জুলাইতে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে খেলেছিলেন ১০৩ রানের ইনিংস। দীর্ঘ ১৯ মাস পর শতকের দেখা পান এই বাঁহাতি ওপেনার।
সেঞ্চুরির পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তামিম। শতক পূর্ণ করতে একটিও ছক্কা মারেননি, তবে বাকি ৫৮ রান করতে মারেন তিন ছক্কা ও ছয় বাউন্ডারি। শেষ পর্যন্ত ১৫৮ রানে থামেন তিনি ১৩৬ বল খরচায়। তাঁর ইনিংসে ছিল ২০টি বাউন্ডারি ও তিন ছক্কা। তামিমের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ১৫৪ রান।
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ৩২২/৮ (তামিম ১৫৮, লিটন ৯, শান্ত ৬, মুশফিক ৫৫, মিঠুন ৩২, মাহমুদউল্লাহ ৪১, মিরাজ ৫, মাশরাফি ১, তাইজুল ০, শফিউল ৫ ; মুম্বা ১০-০-৬৪-২, টিশুমা ৫-০-৩৫-১, ট্রিরিপানো ৮-০-৫৫-২, মাটুমবোদজি ৩-০-৩৪-০, উইলিয়ামস ৭-০-৩৫-০, সিকান্দার ১০-০-৫৯-০)।
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ৩১৮/৮ (কামুনহুকামউই ৫১, চাকাভা ২, টেইলর ১১, উইলিয়ামস ১৪, মাধেভেরে ৫২, রাজা ৬৬, মুতুমবামি ১৯, মাটুমবোদজি ৩৪, টিরিপানো ৫৫*, মুম্বা ০*; মাশরাফি ১০-০-৫২-১, শফিউল ৯-০-৭৬-১, মিরাজ ৭-০-২৫-১, আল আমিন ১০-০-৮৫-১, তাইজুল ১০-০-৫২-৩, মাহমুদউল্লাহ ৪-০-২২-০)।
ফল : বাংলাদেশ ৪ রানে জয়ী।

স্পোর্টস ডেস্ক